বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের সমালোচনায় ইমরান খান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ২০:৪৮

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ও দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়ার সমালোচনা করেছেন। দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইল আউটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সাহায্য চাওয়ায় ইমরান খান এই নিন্দা জানান। 

ইমরান খান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যাপারে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, পাক সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ দেশটির দুরবস্থা নির্দেশ করে। সোমবার (১ আগস্ট) পাকিস্তানি নিউজ পোর্টাল ইন্টারন্যাশনাল দ্য নিউজে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ইমরান খান একধরনের স্মৃতিভ্রংশতায় ভুগছেন যাতে তার স্মৃতির কিছু অংশ মুছে যায়। তার সরকার একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা (এনএসপি) ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন যাতে তিনি নিজে স্বাক্ষর করেন। 

তার এনএসপি বলেন, দেশটির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপতার মতই গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন ,সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি কার্যক্রমের সমালোচনার পূর্বে ইমরান খানের উচিত তার নিজের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা পড়ে দেখা। 

তিনি কি জেনারেল বাজওয়াকে প্রয়োজনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দেখভাল করতে বলেন নি? তারওপর জেনারেল বাজওয়া কি পিটিআই সরকারে একইভাবে বারবার অবদান রাখেন নি? দুটো প্রশ্নের উত্তরই হচ্ছে হ্যাঁ।

ইমরান খান হয়ত এখনও মনে করতে পারেননি কখন পিটিআই সরকার ২০১৮ তে ক্ষমতায় আসে। এই ক্ষমতায় আসার পেছনে জেনারেল কামার বাজওয়ার ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সবাই পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত ছিল।

কিন্তু ২০২২ নাগাদ ইমরান খান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিমালা সংক্রান্ত খাতগুলো থেকে এসব স্টেকহোল্ডারদের বিচ্ছিন্ন করে দেন। পি-৫(ইউএনএসসি) এর দুই রাষ্ট্র তাদের দূত পাকিস্তানে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। ওনার মন্ত্রীরা একটি সভায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। 

তারওপর আরও খারাপ হয়েছে, ইমরান খান একটি বাগাড়ম্বরপূরণ বক্তৃতায় পাকিস্তান- যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে তিনি বাজে মন্তব্য করেন এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সরকারের সঙ্গে কোন প্রকার কার্যকলাপে সংযুক্ত হতে বিরত থাকার কথা বলেন।

অর্থনৈতিক বিষয়ে ইমরান খান নানাভাবে দেশটির বিপদ ডেকে আনেন। তিনি জাতীয় ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ করেন ।তিনি আইএমএফ এর সঙ্গে করা চুক্তির প্রতি অসম্মান জানান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতায় ব্যাপক ভাটা পড়ে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত। দেশটির সেনাপ্রধান এ ব্যাপারে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি জনগণের মধ্যে প্রচার হলে বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই অবহিত হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মূখপাত্র আসিম ইফতেখার আহমাদ, জেনারেল বাজওয়া ও ওয়েন্ডি শারম্যানের মধ্যকার ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোন বিস্তারিত বলেন নি। 

তিনি সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি এই ফোনালাপ এবং এই বিষয়ে আলোচনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না। গত সপ্তাহে কর্মচারী পর্যায়ে আইএমএফ এর সাথে চুক্তি করে পাকিস্তান। এই চুক্তি দেশটির মাল্টিবিলিয়ন ডলারের ঋণমুক্তি প্যাকেজ পুনরায় ফিরে আনবে।

ওয়াশিংটনের মুখপাত্র এ ব্যাপারে কোনকিছু নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন কুটনৈতিক ব্যাপারে কোন নির্দিষ্ট মন্তব্য তারা করেন না। এএনআই থেকে অনূদিত 

ইত্তেফাক/এসআর