শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ১৮:১৮

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ও ইন্টার্ন চিকিৎসককে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের একপর্যায়ে বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় মেডিক্যাল কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ভূইয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বেলা ২টায় অবরোধ তুলে নেন।  

এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন বৃহৎ আকার ধারণ করবে বলে হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা কাল থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, পরিচালক আমাদের আশ্বস্থ করেছেন। তিনি আমাদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে বলেছেন দাবি আদায়ের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। তাই আমরা আজকের দিনের মতো সড়ক থেকে সরে এলাম। তবে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহৎ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে । হাসপাতালের বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।  

ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘এবিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছেন তারা। সেজন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরে আসতে অনুরোধ করা হলে শিক্ষার্থীরা আপাতত সড়ক থেকে সরে এসেছেন। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ 

এদিকে, আন্দোলনকারীরা সব আসামির গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন। এই হামলা ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হুমকির ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮ জনকে। দুজন গ্রেফতার হলেও মূল আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

প্রসঙ্গত, সিলেট এমএ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতি চারদিন যাবত উত্তপ্ত রয়েছে। রবিবার রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ঝগড়ার জের ধরে সোমবার রাতে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বহিরাগতরা। এর প্রতিবাদে রাত থেকেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিসহ আন্দোলনে নামেন।

ইত্তেফাক/মাহি