শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল যুবক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ১৯:৫১

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়ায় জড়িয়ে এক সন্তানের জননীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন মিলন শেখ (২৫) নামে এক যুবক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার থানার এসআই শরিফুল ইসলাম।

এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি আগের স্বামী তাকে হত্যা করে গাছে বুঝিয়ে রেখেছিল। নিহত মিলন সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া গ্রামের মো. ময়নদ্দিন শেখের ছেলে।

কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত চার বছর আগে ওই নারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তালমা ইউনিয়নের তালেশ্বর গ্রামের শহিদ মাতুব্বরের ছেলের বিয়ে হয়। তিন বছর বয়সী তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর ঘনঘন বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসতো ওই নারী। এরই মধ্যে মিলনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে তিনি। একপর্যায় গত ৩০ জুলাই তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় মিলন। 

তিনি বলেন, পালিয়ে গিয়ে মিলন তার প্রতিবেশী হাবিলের সহযোগিতায় দোহার থানার নারিশা বাজারে একটি বাসা ভাড়া নেয়। হাবিল আগে থেকেই দোহারে থাকেন। সেখানে তারা বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করে। মঙ্গলবার রাতে জানা যায় দোহারে মিলনের লাশ পাওয়া গেছে। পরে পরিবারের লোকজন দোহার থানা থেকে মিলনের লাশ নিয়ে এসে বুধবার রাতে দাফন করেন। আমাদের ধারনা মিলনকে হত্যা করা হয়েছে।

মিলনের বাবা মো. ময়দ্দিন বলেন, আমার ছেলে মিলন দোহার থাকতো। সেখানে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। কয়দিন আগে ওই মেয়ে আমার ছেলের বাসায় গিয়ে উঠে। এই খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে তার আগের স্বামী লোকজন নিয়ে দোহার মিলনের বাসায় গিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় দোহার থানা পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছিল। তবে পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আমরা দোহার থানায় হত্যা মামলা করতে গেলেও তা নেয়নি পুলিশ। বরং থানা থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়। পরে আমরা লাশ নিয়ে চলে আসি। এখন আদালতে মামলা করবো।

ওই নারীর স্বামী হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায় মিলন। সাথে আমার সন্তানকেও নিয়ে যায়। তারপর আমি তাদের অনেক খুজতে থাকি। মঙ্গলবার রাত ১১ টাকার দিকে হাবিল আমাকে ফোন করে বলে- তোর স্ত্রীর আর মিলনের লাশ পাওয়া গেছে দোহার নারিশা বাজারে, তুই জরুরী ১০ হাজার টাকা পাঠা, ওদের লাশ নিতে হবে। পরে খোজখবর নিয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রী মারা যায়নি- মিলন মারা গেছে। এর বাহিরে আমি কিছুই জানি না। আমার সাথে এখনও আমার স্ত্রীর কোন যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে দোহার থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন- ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি, কয়দিন আগে সালথা থেকে মিলন ও ওই নারী দোহারে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে থাকতেন। তাদের সাথে একটি সন্তানও ছিল। তারা পরকীয়া করে বিয়ে করে বলে জানতে পারি। বিষয়টি মিলনের পরিবার জানতে পেরে মঙ্গলবার ফোনে তাকে রাগারাগি করে। 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মিলন ও ওই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায় রাগারাগি করে মিলন বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাসার পাশে একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর বুঝা যাবে এটা হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার 

গারো পাহাড় রক্ষায় বিশ্ব হাতি দিবসে র‌্যালি 

হিলিতে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম 

পদ্মায় নিখোঁজের একদিন পর আরেক শিশুর লাশ উদ্ধার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে লাশ বাসায় রেখে অনশন

বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

মাদক মামলায় ২ ভারতীয় নাগরিক কারাগারে

সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু