শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের হিসাব ক্রয়মূল্যে নির্ধারিত হবে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০৬:০০

এখন থেকে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের হিসাব শেয়ারের ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। ফলে বাজারে শেয়ারের দাম বাড়ুক বা কমুক ব্যাংকের ধারণকৃত শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হবে না। আবার বিনিয়োগও আইনি সীমার মধ্যে থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে এক পরিপত্র জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬ক ধারা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা (এক্সপোজার লিমিট) নির্ধারণের ক্ষেত্রে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকে “বাজারমূল্য” হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’ উল্লেখ্য, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর থেকেই পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে গণনা করতে পঁুজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি জানিয়ে আসছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের মতামত জানায়। গতকাল এ ব্যাপারে পরিপত্র জারি করা হলো। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ নির্দেশনা জারির ফলে বাজারে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত শেয়ারের দাম বাড়লেও বিক্রির চাপ তৈরি হবে না। কারণ, আগে দাম বেড়ে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করলে বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলোতে শেয়ার বিক্রি করতে হতো। ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগও করতে পারত না।

তবে এই নিয়ম পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ কতটা বাড়াবে বা পুঁজিবাজারের জন্য কতটা ইতিবাচক এ প্রসঙ্গে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, নতুন এই নিয়মের ফলে কিছু ব্যাংক হয়তো বিনিয়োগ করবে। কিন্তু কতটা তা আগামী দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে। কারণ, ব্যাংকগুলোর কাছে সেভাবে তারল্য নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনো আইন বা বিধিবিধান দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব চিন্তা করে করা উচিত। কারণ, যখন বাজার অতিমূল্যায়িত হয়ে যায়, তখন কী হবে?

এদিকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের হিসাব শেয়ারের ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ার সংবাদের প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেড়েছে সূচকও। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ১৯০ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ১৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবার ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্হান করছে ৬ হাজার ৩১২ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্হান করছে ১ হাজার ৩৭৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে। দেশের প্রধান এই শেয়ারবাজারে গতকাল ৩৮১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৯টির। কমেছে ১৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসই সার্বিক সূচক সিএসপিআই ৭৮ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার।

ইত্তেফাক/এএইচপি