বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সেই তামান্না

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ১৬:২১

তামান্না আক্তার নুরা। জন্মগতভাবেই দুই হাত এক পা-বিহীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিনি। এবার গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকালে ফল প্রকাশিত হয়। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রকাশিত ফলাফলে তামান্না পেয়েছেন ৪৮.২৫। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তামান্না আক্তার নুরা নিজেই। 

এর আগে, গত ৩০ জুলাই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির সন্তান। অদম্য এই তরুণী শুধু একটি পা দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সবকটি পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। তার এই সাফল্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা খোঁজ-খবর নেন। একইসঙ্গে তারা দুই বোন তামান্নার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন।

তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাও করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর এই দুই কন্যা। মেধাতালিকায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত তামান্না। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক রেজাল্টে খুশি হয়েছি। নম্বর ভালো। আশাকরি যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবো। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা। যে নম্বর এসেছে, সেই নম্বর দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মাইক্রোবাইলোজি অনুষদভুক্ত বিষয়গুলোতে চয়েজ দেবো।’

তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘তার স্বপ্ন গবেষণাধর্মী কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করা। স্বপ্ন পূরণে কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেখানে তার চান্স হয়নি। যবিপ্রবিতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেই রেজাল্টে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। আশাকরি তার স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চান্স হবে। তবে যবিপ্রবিতে চান্স হলে সেটা তামান্না আর আমার পরিবারের জন্য ভালো। কেননা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ল্যাব ও বিভিন্ন ব্যবহারিকের জন্য বিভিন্ন ভবনে যাওয়া আসা করা লাগতে পারে তার। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফট নাই। যবিপ্রবিতে আছে। সেটা তামান্নার পড়াশুনার ক্ষেতে অনেক ভূমিকা রাখবে।’

বাবা রওশন বলেন, ‘আমি একটি ননএমপিওভুক্ত দাখিল মাদরাসার শিক্ষক। টিউশন করে সংসার চালাই। আমার পক্ষে জেলার বাইরে পড়াশুনার খরচ বহন করাও সম্ভব হয়ে উঠবে না। তা-ছাড়া তামান্না যেখানেই পড়াশুনা করবে, সেখানে তার সঙ্গে পরিবার থাকা লাগবেই। কেননা তার চলাচলে সব কাজে একজনের সহযোগিতা ছাড়া সে সম্পন্ন করতে পারে না। তাই তার ইচ্ছা বাড়ির কাছে নিজ শহরে যবিপ্রবিতে পড়াশুনা করা। আমার চাকরিটাও করা যাবে, আবার সে ভালোভাবে লেখাপড়াটাও করতে পারবে। তামান্নার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’ 

যবিপ্রবির সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ) আব্দুর রশিদ অর্ণব বলেন, ‘তামান্নার প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ নেয়নি। নিজের মেধার জোরে সে পড়াশুনা করতে চায়। তার এই অদম্য ছুটেচলা অবশ্যই প্রশংসিত। তার জন্য শুভকামনা রইল।’

ইত্তেফাক/মাহি