বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ভাঙন! 

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ১৬:৪৭

ঈশ্বরদীস্থ পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ভাঙন শুরু হয়েছে।  এর আগে এমন ভাঙন এখানে দেখা যায়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিজের পাকশী প্রান্তের ২ নম্বর গার্ডার থেকে ৩ নম্বর গার্ডার পর্যন্ত নদীর চর ভেঙে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন সেতুরও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রিজ বা নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্রিজের নিচের এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এখানকার চা স্টলের রতন মালিথা ও চটপটি বিক্রেতা মুকিম জানান, ৪ নম্বর গার্ডার পর্যন্ত চরের বিস্তৃতি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন ২ নম্বর গার্ডারের কাছে চলে এসেছে। এখানে প্রতিদিনই সৌন্দর্য পিপাসুরা ব্রিজের নিচে চরের মধ্যে বেড়াতে আসেন। অস্থায়ী দোকানপাটে কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়া করেন। নদীর তীর ভাঙতে শুরু হওয়ায় মানুষজন আর আসছে না। যারা আসছেন, তারা ভাঙন দেখতে আসছেন। তবে ভাঙন ঠেকাতে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর মাঝে চরের জমিতে আখ ও কলাসহ বিভিন্ন সবজির বেশ কিছু আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চাষিরা বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে প্রায় তিন দশক ধরে আবাদ করছি। ভাঙনের এমন গতি আগে কখনও দেখিনি। 

পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রেজ রিডার হারিফুন নাঈম ইবনে সালাম বলেন, ১০ দিনের মধ্যে পানি বেড়েছে ২ মিটারের বেশি। ২৫ জুলাই পানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। ৫ আগস্ট পানির পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। সেইসঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মার চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ভাঙন

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার নাজিব কাওছার বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পিলারের আশপাশের স্থান নদীতে ভেঙে গেলেও ব্রিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নদীর গভীরে ব্রিজের পিলার পাইলিং করে স্থাপন করা আছে। 

নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। নদীর তীর যৌথভাবে পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের আশপাশের এলাকাসহ সাঁড়ায় ভাঙন প্রতিরোধে গত বছর জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এবারেও পানি বৃদ্ধির বিষয়টি জেনেছি। পানি কমতে শুরু করলে জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙনে ব্রিজ বা নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। নদীর চর ভাঙবে ও জেগে উঠবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোনো ধরনের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/মাহি