বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আজমপুরে সিএনজিচালিত অটো-ইজিবাইকের চাপে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ২১:৩৫

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজারে সিএনজিচালিত অটো ও বিদ্যুতের চার্জে চালিত অটোরিকশার (ইজিবাইক) চাপে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দক্ষিণখান ও উত্তরখানে বসবাসকারী মানুষের প্রধান সড়ক আজমপুর কাঁচাবাজার সড়কে এই যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। এছাড়া প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

স্থানীয়রা জানায়, রাস্তাটা সরু এবং মোড়গুলো প্রশস্ত নয়। কোন নিয়মনীতি না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো ইচ্ছেমতো চলছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। 

সবুজ বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত আর্ক হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটো ও ইজিবাইক যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে কয়েক বছর পর এলাকায় চলাচল করার উপায় থাকবে না। আজমপুর কাঁচাবাজারে যানজটের প্রধান কারণ ইজিবাইক। এই যানজটের কারণে অসুস্থ কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

ছবি: ইত্তেফাক

রাজউক কমার্শিয়ালের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটো-ইজিবাইক এগুলো মানুষের চলাচলের উপকারের জন্যই। কিন্তু অতিরিক্ত হয়ে গেলে সেটা বিপদজনক।’

উত্তরখান এলাকায় সাংবাদিক শাকিবুল হাছান বলেন, ‘আগে আজমপুর রেললাইনের থেকে উত্তরখান মাজারে যেতে সময় লাগতো ৫ থেকে ৭ মিনিট। বর্তমানে প্রায় ১ ঘণ্টা লাগে।

সিএনজিচালিত অটোচালক শামীম বলে, ‘আমরা গরিব মানুষ অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। যেখানে যাত্রী পাই দুইটা পয়সার জন্য সেখানেই ছুটে যায়। আমাদের কিন্তু নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ড নেই। গাড়ি রাস্তায় ঘুরাতে হয়।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডিএম শামীম বলেন, ‘আজমপুর কাঁচাবাজারে যানজট মুক্ত রাখতে অচিরেই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিকের ডিসি বরাবর দরখাস্ত দিই। তারা এই এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।’

ছবি: ইত্তেফাক

ডিএনসিসির অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন জানান, ইজিবাইক ও বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সিটি করপোরেশন খুব শিগগিরই সমন্বয় করে কাজ করবে। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি, বাজার মালিক সমিতি, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক করা হবে।

ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল হক বলেন, ‘নতুন ইউনিয়নগুলো সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সরকার এই নতুন ইউনিয়নগুলো জন্য বাজেট তৈরি করেছে। খুব শিগগিরই আশা করি সিটি করপোরেশনের সুবিধাগুলো পাবে।’ 

যানজট নিরসনে ট্রাফিক কী ভূমিকা পালন করছে-এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার মালিক সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটি পুলিশকে নিয়ে একসঙ্গে যানজট নিরসনের মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধান করা হবে।’

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির।

ইত্তেফাক/এএএম