শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তেলের দাম বৃদ্ধি: মাঝরাতেও ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ভীড় 

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫০

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর খবরে শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতেই কক্সবাজারের পেট্রল পাম্প গুলোতে ভীড় করেছে মোটরসাইকেল চালকরা। বাড়তি লাভের আশায় অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যার পর থেকে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন, ও অকটেনের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

দাম বেড়েছে প্রতি লিটার ডিজেলে ৩৪, কেরোসিনে ৩৪, অকটেনে ৪৬, পেট্রলে ৪৪ টাকা। দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও প্রতি লিটার পেট্রল ১৩০ টাকায় কিনতে হবে।

আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।

শুক্রবার রাত ১২টার পর এ দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রচার পাবার পর কক্সবাজারের রামুর এন আলম, লিংক রোড় এলাকার ফয়েজ এন্ড ব্রাদার্স পেট্রল পাম্প জ্বালানি বিক্রয় বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন অনেক পরিবহনের চালকরা। তাদের মতো ঈদগাঁও, চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফেও বেশ কিছু পাম্পে রাত ১২ পর্যন্ত জ্বালানি বিক্রয় বন্ধ ছিলো বলে জানান রাতে বাড়ি ফেরা অনেক গাড়ির চালক।

একে এলাহী নামের এক মোটরসাইকেল চালক কর্মজীবী বলেন, জরুরি কাজে সন্ধ্যা একটু রামু যেতে হয়েছিল। বাইকে জ্বালানি ইমার্জেন্সী মুড়ে চলছিল। তেল নিতে এন আলম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখি তেল দেয়া বন্ধ। জিজ্ঞেস করার পর বললো রাত ১২ টার পর বলেন বিক্রয় শুরু হবে আবার।

অপরদিকে, একই ধরনের সমস্যা পড়া রাশেল শাহীন বলেন, বাইকে তেল শেষ হওয়ায় কক্সবাজার লিংকরোড এলাকার ফয়েজ এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে দেখি বন্ধ। পরে বাস টার্মিনাল এলাকার ক্যাপ্টেন কক্স - থেকে জ্বালানি নিয়ে ফিরেছি।

সূত্র মতে, অকটেনের দাম লিটারে খুচরা ৪৬ টাকা বাড়ছে দেখে শেষ বারের মতো ৯০ টাকায় টাংকি পুর্ণ করতে সন্ধ্যার পর হতে বাইক ও অকটেন চালিত গাড়িগুলো পেট্রল পাম্পে এসে ভীড় জমায়। এ ভীড় মাঝ রাত পর্যন্ত অব্যহত ছিলো। তবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধিত এবং আমদানি করা ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা করে সরকার। তবে অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রম ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কিছুদিন ধরে দেশের বাজারেও বাড়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছিল। সরকার এরই মধ্যে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে নানা নির্দেশনাও দিয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে উদ্ধৃত করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চিন্তা করেনি। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি