মাধবপুরে বন্যায় ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যাবস্থা

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২০:২৮

মাধবপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তা ভেঙে গেছে। উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যা ও সোনাই নদীর তীর ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষ্ণপুর এলাকায় ব্রিজ ধ্বসে তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কে যান চলাচল  বন্ধ রয়েছে। ফলে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন যাপন করছেন কয়েকটি গ্রামের লোকজন।

বহরা, চৌমুহনী, আন্দিউড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান জানান, দীঘিরপাড় গ্রাম এলাকায় সোনাই নদীর তীর ভাঙনে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস হয়ে শাহপুর রাস্তায় ৫টি স্থানে ভাঙা দিয়ে দীঘির পাড়, সুলতানপুর, কুটানিয়া হরিশ্যামা গ্রামের লোকজন যোগাযোগ বঞ্চিত অবর্ণনীয় কষ্টে দিন যাপন করছে।

দীঘির পাড় গ্রামের সোহেল মিয়া মনির মিয়াসহ কয়েকজনের ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। নন্দলাল দাশ, চন্দন সরকার জ্যোতি দাসের পুকুরসহ গ্রামের ১৫টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।  এলাকার  অধিকাংশ জমিতে বালু উঠে জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের লোকজন জানিয়েছে এবারের মতো আর কোন সময় সোনাই নদীর ভাঙ্গনে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মনতলা ভূমি অফিসের তহশীলদার আঃ কাদের জানান, বন্যায় তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কের কৃষ্ণপুর ব্রীজ ধ্বসে এ আভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কিছু লোকজন ভাঙ্গাতে বাঁশ ফেলে সিএনজি, মোটর সাইকেল পারাপার করে ১০/ ২০ টাকা আদায় করছে। তার অফিসের এক সহকারীর কাছ থেকে মোটর সাইকেল পার করে ২০ টাকা রেখেছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম চৌধুরী জানান শাহপুর, জালোয়াবাদ, নোয়াগাঁও গ্রামের রাস্তাঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী জানান, তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কে জরুরী ভিত্তিতে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এলজিইডির হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিক বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বড়লেখায় ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে শিশুর মৃত্যু মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম জানান মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত ৪ মেঃ টন চাল ও ঘর হারাদের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টিনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। গ্রামীণ ভাঙ্গা রাস্তা বিশেষ টিআরের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু