বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে বাড়ছে ফসলের ফলন 

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ১৪:৪৬

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গোবর প্রক্রিয়াজাত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে উৎকৃষ্ট জৈব সার। এই সারের নাম হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর ফকিরপাড়া গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের কৃষক সৈয়দ মশিউর রহমান (৪৩) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০) তাদের বাড়ির খুলিয়ানে ছায়াযুক্ত স্থানে টিনশেডের ঘরে রিং দিয়ে হাউজ স্থাপন করে পুরনো গোবর আর এপিজিক রেড বেঙ্গল কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রতিটি রিং এ দুই থেকে আড়াই শত কেঁচো রয়েছে। 

ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা সৈয়দ মশিউর রহমান বলেন, কেঁচো গোবর খেয়ে যে মল ত্যাগ করে সেটাই ভার্মি কম্পোস্ট সার। একটি কেঁচো প্রতিদিন ৫ গ্রাম করে গোবর খায় এবং আড়াই গ্রাম মল ত্যাগ করে। চিরিরবন্দরে এই সার উৎপাদনে প্রথম পরামর্শদাতা হলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম। তার পরামর্শে প্রথম ২০২২ সালে জানুয়ারী মাসে ১৬টি রিং স্থাপন করে এপিজিক রেড বেঙ্গল দ্বারা মাসস্কেল ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) ফকিরপাড়া পুরুষ সিআইজি সমবায় সমিতির লিমিটেডের আওতায় ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা পাই এবং এতে আমাদের খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। 

প্রতি রিং-এ ছয় ডালি গোবর দিলে ৪০ থেকে ৫০ দিনে ওই রিং থেকে এক বস্তা কেঁচো সার পাওয়া যায়। ছয় ডালি গোবরের দাম ৬০ টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৫০০ টাকা। প্রথম উৎপাদিত কেঁচো সার আমি আমার ফসলে প্রয়োগ করছি এবং ভালো ফল পেয়েছি। আমার কাছ থেকে একই গ্রামের নুর আলম, মোজাফ্ফর হোসেন, সৈয়দ সাফি, মতিউর রহমানসহ অনেকে এর সার ক্রয় করে ফসলে দিয়েছেন এবং আশানুরূপ সফলতা পেয়েছেন। 

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেন, আমি নিজে ও পরিবারের সদস্যরা সার উৎপাদন কাজ দেখভাল করে থাকেন। এসার উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। এই সার ব্যবহার করে জমিতে আশানুরূপ ফলন পেয়ে কৃষকরা খুবই খুশি। দিন দিন এই সারের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার উৎপাদিত সার ধান, পাট, ভূট্টা, শাকসবজির চাষিরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় সফল উদ্যোক্তা সৈয়দ মশিউর রহমান। এ ছাড়াও, উপজেলার অমরপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম, ভিয়াইল গ্রামের হোসেন আলী ও জুননুন রহমান, সাইতাড়া জগন্নাথপুর গ্রামের পুতুল রাণী, তেঁতুলিয়া গ্রামের নাঈম হুদা উদ্যোক্তা রয়েছেন। কেঁচো সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিলেও কাঙ্খিত ফলন পাওয়া সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, এটি সম্পূর্ণ অরগানিক সার। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার একদিকে যেমন মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়াবে, অন্যদিকে খরচও অনেক কমিয়ে দেবে। এই সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব এবং সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে মাটি সমৃদ্ধ হয়।

ইত্তেফাক/মাহি