মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মানুষ চলে যাচ্ছে হাতির আবাসস্থলে, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫০

বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতি আতঙ্কে আছে গারো পাহাড়ের সীমান্তের তিন উপজেলার মানুষ। দীর্ঘদিন হাতি আর মানুষের মধ্যে লড়াই চলছেই। খাদ্য সংকটেরসহ নানা কারণে প্রায়শই হাতি-মানুষ মুখোমুখি হচ্ছে। এতে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ-হাতি উভয়ই। সবশেষ ২ আগস্ট রাতে ছমেদ আলী (৬৫) উরফে আহালু নামে এক বৃদ্ধ হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। এতে গত আট বছরে হাতির আক্রমণে মানুষ মারা গেছে ২৪ জন। আর ছোট-বড় মিলে মারা গেছে ২৮টি হাতি।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভারত থেকে এসে শতাধিক বন্যহাতি দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেছে। প্রথম দিকে হাতির সংখ্যা কম হলেও বংশানুক্রমে বর্তমানে তাদের সংখ্যা শতাধিক। অন্যদিকে ক্রমান্বয়ে বনাঞ্চল দখল করে মানুষ বসবাস শুরু করায় হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। ফলে হাতি দল বেঁধে প্রায়ই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে গারো পাহাড়ে শতাধিক বন্যহাতি কয়েকটি উপ-দলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ে হামলা দিচ্ছে। এতে মাঝেমধ্যেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত একর জমির মৌসুমি ফসল লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি। পাহাড়ি মানুষের জীবন এখন হুমকির মুখে।

জানা যায়, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর, কাটাবাড়ী, পানিহাটা, খলচান্দা, দাওধারা, বাতকুচি, বুরুঙ্গাসহ প্রায় ১২টি গ্রাম, শ্রীবরদীর কর্ণঝোড়া, বাবলাকোনা, রাজারপাহাড়, কোচপাড়া, খাড়ামোরা, মেঘাদলসহ ১৩টি গ্রামে ও ঝিনাইগাতীর বড়গজনী, ছোটগজনী, রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়া, নকশী, দুধনইসহ প্রায় ১৩টি গ্রামে প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে। হাতি পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘরে, ফসলাদির জমিতে ও বিভিন্ন বাগানে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা এলাকার বিজার কুবি জানান, বন্যহাতি ঢাকঢোল পটকা ও আগুনকে ভয় পায়। এলাকাবাসী মশাল-আবর্জনা জ্বালিয়ে হই-হুল্লোড়, ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে।

শেরপুরের বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, মানুষ এবং হাতিকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সরকার গারো পাহাড়ে হাতির জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। পাশাপাশি পাহাড়ি মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ২৮টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রাণ গেছে ২৪ জন মানুষের।

এ ব্যাপারে মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ইতিমধ্যে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে ২২ লাখ টাকা বিতরণ করেছি। আনুমানিক আরো ৩৫ লাখ টাকা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা মানুষদের সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি। নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভিন বলেন, আমি দেড় বছর হয় এখানে আছি। এই দেড় বছরের মধ্যে দুটো হাতি এবং দুই জন মানুষ মারা গেছে। আসলে মানুষ চলে যাচ্ছে হাতির আবাসস্থলে আর খাদ্যের জন্য হাতিও হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। হাতি এবং মানুষের সহাবস্থান নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

খালুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

অপহরণের একদিন পর শিশু উদ্ধার 

চোর ধরতে পারলে নগদ লাখ টাকা পুরস্কার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঝিনাইগাতীতে কাঠের সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগ

পুকুরের মধ্যখানেই হলো হালিম মিয়ার বাসর

শ্রীবরদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু

শ্রীবরদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু