ব্যাটেই লুকিয়ে রাজার ছক্কা মারার রহস্য

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৫

পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ফাইটার পাইলট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সিকান্দার রাজা। কিন্তু চোখের সমস্যার কারণে মধ্যপথে ছেড়ে দিতে হয় সেই স্বপ্ন। রাজা হতাশ হয়েছেন বটে, কিন্তু সেই হতাশা তার ভেতরের যোদ্ধা মানসিকতাকে গ্রাস করতে পারেনি। চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা থাকলেও বলের গতি তিনি ভালোই বুঝতে পারেন। তাই বড় বড় ছক্কা মারতে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না।

বাংলাদেশের ক্রিকেট পাড়ায় ছক্কা মারতে না পারার সক্ষমতার প্রশ্ন উঠলে উত্তরে পাওয়ার হিটিংয়ের অজুহাত যখন অবধারিত ভাবেই চলে আসে, তখন জিম্বাবুয়ের মতো খর্বশক্তির দলের রাজারা হয়ে ওঠেন ব্যতিক্রম। গত কয়েক সপ্তাহ দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-২০তে হয়েছেন সিরিজ-সেরা। প্রথম ওয়ানডেতে আগুন রূপে ধরা দিলেন তিনি। যেই জিম্বাবুয়ে টানা ৯ বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতেনি, সেই তারা সেদিন দাপট দেখাল। তা-ও দ্বিতীয় স্তরের দল নিয়ে। ১০৯ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক ছিলেন রাজা।

বাংলাদেশের পুরো ইনিংসে ছক্কার মার ছিল চারটি, সেখানে রাজা একাই মারেন ৬টি ছক্কা। সেই রহস্য জানাতে গিয়ে ইএসপিএনক্রিকইনফোকে রাজা বলেন, ‘আমি মনে করি ছক্কা মারার রহস্যটা আমার ব্যাটেই লুকিয়ে। অন্যরা যা করে আমি তার থেকে আলাদা কিছু করি না। আমার যথেষ্ট ভালো ব্যাট আছে।’

রাজার মতে, ভালো ছয় মারতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকাটা জরুরি, ‘বাউন্ডারির জন্য আমি একটি বা দুটি বল খোঁজার চেষ্টা করি। আগে নিশ্চিত করি টাইমিং যথাযথ হয়েছে কি না। এক বার যদি টাইমিংটা ভালো মতো শুরু করতে পারি, তাহলে বড় বড় বাউন্ডারিতেও ছক্কা হাঁকাতে পারব আমি। এক বার আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হয়ে গেলে, নিজের চাওয়ামতোই বল পাওয়া যায়। তাই আসলে কোনো গোপন রহস্য নেই।’

টানা হেরে বাংলাদেশকে হারানোর জেদ ছিল রাজার, ‘আপনারা জানেন, আমি এমন একজন মানুষ যে কি না পরিসংখ্যান দেখতে পছন্দ করি। গতকাল একটি পরিসংখ্যান চোখে পড়ে। আমি একটি আর্টিকেল পড়ছিলাম, যেখানে বলা হয়েছে সম্ভবত বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা ২০ ম্যাচ (প্রকৃতপক্ষে ১৯ ম্যাচ) জয় পাইনি। আমি এটা দেখলাম। মনে হচ্ছিল যদি ম্যাচটা জিততে পারি দারুণ হবে।’

আজ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করবে জিম্বাবুয়ে। সেই সুযোগটা হারাতে চান না রাজা, ‘আমি বাংলাদেশকে অসম্মান করছি না। তারা শক্তিশালী দল। রবিবার সিরিজ জিততে চাইবে জিম্বাবুয়ে। আমরা সঠিক মনোভাব নিয়ে মাঠে ফিরে আসতে চাই।’

ইত্তেফাক/ইআ