শিক্ষার্থীদের সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিরামপুর উপজেলার ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (দোকানদারবিহীন দোকান) সততা স্টোর চালুর মাত্র কয়েক মাস পর করোনার প্রভাবে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ৪/৫টি সততা স্টোর ছাড়া বাকি প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সততা স্টোর বন্ধই রয়েছে।
জানা গেছে, সর্বস্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সততা স্টোর চালু করে। এসব সততা স্টোরে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যেমন- খাতা, কলম, পেন্সিল ও বিস্কুট, চিপসসহ প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রী মূল্য তালিকা দিয়ে রাখা হয়। সেখানে কোনো দোকানদার থাকে না। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন মাফিক দ্রব্য নিয়ে তার মূল্য নির্দিষ্ট বাক্সে রেখে যান। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিশুকাল থেকেই সৎ মনোভাব তৈরি হয়।
সততা স্টোর চালুর লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১৯ সালের মে মাসে বিরামপুর উপজেলার ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটিতে ৪ হাজার ১০০ টাকা করে এককালীন প্রদান করে। এই টাকায় ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে করোনার প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সততা স্টোরও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সততা স্টোরের দ্রব্যাদি নষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কয়েকটিতে নতুনভাবে সততা স্টোর চালু করা হলেও এখনও অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর বন্ধই রয়ে গেছে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ একেএম শাহজাহান জানান, সততা স্টোর চালুর পর তিনি পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার চালু হলে তিনি তা দেখভাল করবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর আলম বলেন, ৫৬টি সততা স্টোরের মধ্যে করোনার পর কয়েকটি চালু করা হলেও বাঁকি অর্ধশতাধিক সততা স্টোর বন্ধ রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর পুনরায় চালুর জন্য জোর তাগিদ দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবহিত করা হয়েছে।
