বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বগুড়াসহ চার জেলায় ৪৩ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপণ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৯

বগুড়াসহ আশপাশের চার জেলায় দুই সপ্তাহ আগে আমন চাষিরা যে শঙ্কায় দিন পার করেছে এখন তার উলটো চিত্র। স্বস্তির বৃষ্টি আমন চাষিদের মনে খুশি ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন ব্যস্ত সময় পার করছে আমন চাষিরা। শ্রমিক সংকটেও পড়েছে অনেক চাষি। কারণ পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ার এক সঙ্গে সবাই মাঠে চারা রোপণ করতে নেমে পড়েছে। খুশি মনে আমন চারা রোপণ করলেও ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধিতে তারা চিন্তিত। 

বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চল। এই চার জেলায় চলতি বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, জয়পুরহাটে ৬৯ হাজার ৭০০ হেক্টর, পাবনায় ৫৫ হাজার ৯৯০ হেক্টর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ৭২ হাজার ৬৩০ হেক্টর।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে এই চার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র দুই ভাগ জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছিল। কারণ পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা আমন চাষ করতে পারছিল না। কিন্তু দুই সপ্তাহে এই চার জেলায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা ঘুম হারাম করে দিনে-রাতে জমি চাষ করে চারা রোপণ করছেন। আর সেজন্য মাত্র দুই সপ্তাহে চার জেলায় আমন চারা রোপণ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ ভাগ।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ধান রোপণ করে চাষিরা। আশা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার চাষিরা আমন চাষ করতে পারবে। 

বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা গ্রামের চাষি সজল শেখ জানান, আমন চাষ নিয়ে যে শঙ্কায় ছিলাম তা দূর হয়েছে। কিন্তু ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধিতে তিনি চিন্তিত। তিনি বলেন, এখন ধান চাষ করে চিন্তায় থাকতে হয়। ফসল তোলার পরে দাম পাওয়া যায় না। তার পরেও ধান চাষ করতে হয় সারা বছর ভাত খাওয়ার জন্য।

শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের বউ বাজার এলাকার সাইদুল ইসলাম জানান, ১৬ বিঘা জমি চাষ করছি। বৃষ্টি না হওয়ায় চারাগুলো খরায় লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরপর চার দিন পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। জমিগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় জমি চাষ করে চারা রোপণ করেছি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইউসুফ রানা মণ্ডল জানান, আমন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে চাষিরা জমি চাষ করতে না পারলেও এখন পুরোদমে মাঠে রয়েছে চাষিরা| বরং চাষিরা এখন শ্রমিক সংকটে রয়েছে। এক সঙ্গে জমি চাষ করতে গিয়ে তারা কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের চেয়ে এবারও ভালো ফলন হবে। তিনি আরও জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর আমন চাষের জমি বেড়েছে। যে কারণে ফলনও বেশি হবে। 

ইত্তেফাক/এআই