শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মোরেলগঞ্জে আমন বীজ সংকটের আশঙ্কা 

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১০:২৪

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আমন ধানের বীজ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা একাধিকবার বীজতলা তৈরি করেও বৃষ্টির অভাবে বীজ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে ৩৭০ হেক্টর উচ্চ ফলনশীল উফসী ও ২১০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৃষ্টিহীন বর্ষা ও পানির সংকটে সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বৃষ্টি  ও মিষ্টি পানি নির্ভর আমন ধানের বীজতলা পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। কিছু আবার বীজ লবন পানিতে পচে গেছে। হলুদ হয়ে গেছে। ফলে এ বছর আমন বীজের চরম সংকট দেখা দিতে পারে। অনেক কৃষক একাধিবার বীজতলা করেও সফলতা পাননি।

স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও লতিফ শেখ জানান, তাদের অধিকাংশ আমন বীজতলা বৃষ্টির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। অনাবৃষ্টি ও পানির অভাবে মাঠ শুকিয়ে ফেঁটে গেছে। এজন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের উচ্চমূল্যে বীজ ধান ক্রয় করতে হবে। ট্রাক্টর নির্ভর কৃষকরা তেলের ও সারের মূল্য বৃদ্ধিতে তাদের অবস্থা এখন নাজুক। তারা জমি চাষাবাদ নিয়েও হতাশায় ভুগছেন।   

উপজেলা সদর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও চলতি মাসে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় নেতিয়ে পড়া বীজ ধান সজীব হয়ে উঠেছে। কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নিশানবাড়িয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে  এ ইউনিয়নে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বীজতলা শুকিয়ে গেছে। তবে চলতি মাসে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

জিউধরা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বলেন, তীব্র তাপদাহ ও অনাবৃষ্টিতে চলতি বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী জানান, অনাবৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে এ সমস্যা বেশি প্রকট। সংকট মোকাবিলায় চাষিদের বীজ চারা ক্রয় করতে হবে।

ইত্তেফাক/মাহি