সৈয়দপুর রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা প্রায় আড়াই হাজার কোয়ার্টার জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর এসব কোয়ার্টারে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন মানুষজন।
সৈয়দপুর রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের তথ্য মতে, ১৮৬৫ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ২ হাজার ৪৮৮টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের জন্য ৩১টি দ্বিতল, সাব-অর্ডিনেটদের (মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা) ১৩৯টি বাংলো এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট ৭১১টি ও এক কক্ষ বিশিষ্ট ১ হাজার ৬০৭টি কোয়ার্টার রয়েছে।
সরেজমিনে এ সকল কোয়ার্টার ঘুরে দেখা গেছে, দুটি অফিসার্স কোয়ার্টার বাদে সবগুলোতেই মানুষ বসবাস করছেন। দেড় হাজার কোয়ার্টারে বৈধ অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। কোয়ার্টারগুলোর ভেতরে মেঝে, দেয়াল ও ছাদের চুন সুড়কির গাঁথুনির পলেস্তারা প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। বাইরের দেয়ালে জন্ম নিয়েছে ছত্রাক ও বিভিন্ন গাছ-গাছালি। এভাবে কোয়ার্টারগুলো পরিণত হয়েছে পোকামাকড়ের ঘরবসতিতে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মচারী দুলাল হোসেন জানান, আমি অফিসার্স কলোনির ১৪২নং কোয়ার্টারে বসবাস করছি। বাড়ির ভেতরে বিভিন্ন পোকা প্রায়ই দেখা যায়। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পড়া পানিতে পুরো ঘরের আসবাবসহ সবকিছুই ভিজে নষ্ট হয়। ছাদের চুন সুড়কি মিশ্রণের বড় টুকরোগুলো পড়ে পরিবারের সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো ফল হয়নি। একই অভিযোগ করেন গোলাহাট রেল কলোনি, সাহেবপাড়া, গার্ডপাড়া, মুন্সিপাড়া, রাইস মিল, নিচু কলোনি, ইসলামবাগ, রসুলপুর ও নতুনবাবুপাড়া এলাকার কোয়ার্টারবাসী।
সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ের বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো দেড়শ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। এসব কোয়ার্টারের আয়ুষ্কাল বহু আগেই শেষ হয়েছে। তবে প্রতি তিন বছর পরপর সংস্কার করে কিছু কোয়ার্টার বসবাস উপযোগী করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণগুলো ড্যামেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
সৈয়দপুর ভূ-সম্পত্তি বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্দীকুল আলম বলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় সফল হয়নি।
