স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহীতে পদ্মার বামতীর দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্মিত বিনোদনকেন্দ্রের পাশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ার হিড়িক পড়েছে।
রাসিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রথম মেয়াদে মহানগরীর বড়কুঠি এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার বামতীরের পরিত্যক্ত জায়গায় দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলেন। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে এখন মানুষের ঢল নামে। সেখানে ফুডকোর্টের পাশে বেসরকারি উদ্যোগে আরো ছয়টি ফুডকোর্ট গড়ে উঠেছে। নদীর পাশে যাদের জমি রয়েছে, তারা নিজেদের জায়গায় দোকান নির্মাণ করেছেন। পরে তারা নদীর তীর বেঁধে নিজ প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ এবং ব্যবসার স্বার্থে দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করেছে। এ দোকানগুলো হচ্ছে ‘রিভার ভিউ ফুড কর্নার, সিফাত ফুডস, রয়্যাল সি স্কয়ার, ফ্রেন্ডস ফাস্ট ফুড ও এন ফুড কর্নার।’ সন্ধ্যার পর এসব দোকানগুলোয় আলো-ঝলমলে পরিবেশ তৈরি করা হয়। ফলে উঠতি যুবক ও তরুণ-তরুণীরা ভিড় করেন সেখানে।
এন ফুড কর্নারের কর্মচারী মাসুদ রানা বলেন, পেছনে দোকান মালিকের বাড়ি। যার যার বাড়ির সামনের সরকারি জায়গার ওপর তারই অধিকার থাকে। ফ্রেন্ডস ফাস্ট ফুডের স্বত্বাধিকারী আবদুস সালামের দাবি, এ জায়গায় তাদের ১০ বছরের পরিশ্রম রয়েছে। নিজে গায়ে খেটেছেন। শ্রমিক নিয়ে কাজ করেছেন। তারপর জায়গাটি বসার মতো হয়েছে। তারাই জায়গাটি সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। বিনোদন কেন্দ্রটির পশ্চিম দিকে অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সবাই নদীর ভেতরে বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে চত্বর তৈরি করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মিলন স্টোর, ফাতেমাতুজ্জোহরা চটপটি ও ফুচকাঘর, সুইটি চটপটি, জুনায়েত চটপটি, ফুচকা হাউস, মা-মণি চটপটি, নাজিম উদ্দিন চটপটি অ্যান্ড ফুচকা, চটপটি ঘর, সিজার চটপটি ঘর, বিসমিল্লাহ মিনি চায়নিজসহ বেনামি আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো নাম নেই। কিন্তু বাইরে সাজসজ্জা বেশ মনোরম। এ দোকানের মালিক বলেন, তার প্রতিষ্ঠান তিনি ভেঙে নেবেন। ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মাটি কেটে তিনি জায়গা বেঁধেছেন। তার ছেলেসহ আরো কয়েকজন দোকানটি চালান। তার ভাষ্য, সবাই করেছেন, তাই তিনিও করেছেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিনুর আলম বলেন, নদীর মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড নয়। নদীর মালিক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তাদের নিয়ম অনুযায়ী নদীর ‘ফোর শোর লাইন’ থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত নদীর এলাকা থাকে। তবে রাজশাহীতে শুধু টি-বাঁধের জায়গাটি পাউবোর অধিগ্রহণ করা। এর আশপাশে যারা দখল করেছেন, তাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড শিগগিরই উচ্ছেদ করবে।
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের (ঢাকা) দপ্তরের সমন্বয়কারী সেলিম শেখ মোবাইল ফোনে বলেন, দেশের যে ৩২টি নদীবন্দর রয়েছে, ঐ বন্দর এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের। সব নদীও তাদের নয়। অন্যগুলো জেলা প্রশাসনের।
