অস্তিত্ব সংকটে তিতাস নদী!

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২১:৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বৈচিত্র্যময় বাংলার অন্যতম নদী তিতাস। এই নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। অবৈধ দখল আর দূষণের ফলে রূপলাবণ্য হারিয়ে নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। নাব্য হারিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে তা গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি নদী খনন কাজ শুরু হলেও তা সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, তিতাস নদীকে ঘিরে এক সময় সমৃদ্ধ ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিসহ এলাকার অর্থনীতি। এ নদীতে বড় বড় জাহাজ, লঞ্চ, স্টিমার ও নৌকায় করে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলসহ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হতো। লঞ্চের শব্দ আর বড় বড় পালতোলা নৌকার মাঝি-মাল্লাদের কণ্ঠধ্বনিতে তিতাস পারের মানুষের ঘুম ভাঙতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই তিতাস নদী সরু খালে পরিণত হওয়ায় তা এখন সোনালি অতীত। ইতিমধ্যে ১১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটির ১০৩ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে পলি জমে ও চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। সে সাথে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে পৌর এলাকার আনন্দ বাজার, মেড্ডা, শিমরাইল কান্দি, সদর উপজেলার উজানিশারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর দুই পাশে গড়ে তুলেছে অবৈধ স্থাপনা ও দালানকোঠা। এতে করে নদী সরু হয়ে তার নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। ফলে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহীরা বিপাকে পড়েছে। সম্প্রতি নদী খনন কাজ শুরু হলেও তা সঠিকভাবে হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জেলে রবি দাস জানান, নদীতে এখন আর আগের মতো পানিও নেই, মাছও নেই। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। অপর জেলে কাজল দাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে জাল ফেললেই মাছ পেতাম। কিন্তু এখন তেমন মাছ পাই না। নদীপথে চলাচলকারীরা জানিয়েছেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় নৌ চলাচলে সময় বেশি লাগছে। তাছাড়া খনন কাজ শুরু হলেও তা সঠিকভাবে করা হচ্ছে না।

লঞ্চ চালক মো. সিরাজ মিয়া জানান, ৪০ বছর ধরে নদীপথে লঞ্চ চালাই। তিতাসের বুকে পানির যে উত্তাল ঢেউ ছিল তা এখন আর চোখে পড়ে না। বর্তমানে নদীর জল শুকিয়ে তা সরু হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। সঠিকভাবে নদীর খনন কাজ না করলে এই নদীপথে লঞ্চ, নৌকা ও ভলগেট চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সুত্রধন জানিয়েছেন, নদীর স্বাভাবিক গতি ফেরাতে খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি নদীর নাব্য ফিরে পাবে।

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা স্থাপনা তৈরি করে নদীর বিভিন্ন জায়গা দখল করে রেখেছে। আমরা ইতিমধ্যে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে ৬২৩ জন দখলবাজদের সুনির্দিষ্ট তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। শিগগির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান শুরু হবে।