মধুপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩১

বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় রহস্যময় মৃত্যুতে ঝরে গেল এক গৃহবধূ। তার নাম নুরুন্নাহার ইতি (১৯)। তিনি ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভট্টবাড়ী গ্রামের জলিলের স্ত্রী। তিনি গোপালপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার (৩০নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইতির লাশ উদ্ধার করে।


ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন একে আত্মহত্যা বললেও নিহতের বাবার পরিবার 'নৃশংস হত্যা' বলছে। ইতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার স্বামী চাকরির সুবাদে ঢাকায় বাস করেন। কিন্তু ইতি স্বামীর বাড়িতে থেকে কলেজে ক্লাস করতেন। সামনের সপ্তাহে তার পরীক্ষা ছিল।

নিহত ইতির কাকা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ভুট্টো জানান, ছয় মাস আগে মধুপুরের ভট্টবাড়ীর মেছের আলীর ছেলে জলিলের সঙ্গে ইতির বিয়ে হয়। এ সময় জলিলকে যৌতুক দেওয়া হয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা বাহানায় আরও যৌতুক নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয় জলিলের পরিবার। সর্বশেষ কিছুদিন আগে ব্যবসার কাজে আরও ১ লাখ টাকা দাবি নিযে পারিবারিক কলহ চলছিল।

'ভাতিজি তিন মাসের অন্তসত্বা ছিল' দাবি করে আব্দুল হামিদ ভুট্টো বলেন, 'জলিলের পরিবার ইতিকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।'

ইতির মা আছমা বেগমের অভিযোগ, 'ইতির স্বামী জলিল চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগে জলিলের ছোট ভাই (দেবর) কলেজ পড়ুয়া জুয়েল ইতিকে নানাভাবে আপত্তিকর ইঙ্গিত করে উত্যক্ত করতো। এ নিয়ে উভয় পরিবারে অশান্তি হয়েছে। উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ইতি। পারিবারিক শালিসও বসেছে একাধিকবার।' 

সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতি স্বামীর সঙ্গে কথা বললে জলিল ইতিকে ঢাকায় নিযে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার সকালে স্বামীর কাছে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল ইতির।

ইতির মা আছমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ইতি তাকে মোবাইলে কর করে বিষয়টি জানায়। তার ঘন্টা খানিক পর জলিলের পরিবারের কল আসে। তারা জানায় 'ইতি আত্মহত্যা করেছে।' 

ইতির ভাই হায়দার আলী অভিযোগ করে বলেন, 'রাতে আমরা ঘটনাস্থলে গিযে বাড়ির পাশে জাম গাছের নিচে ইতিকে শুইয়ে রাখতে দেখি।' ওই পরিবারের সদস্যরা জানায় তাকে ফাঁসি দেওয়া অবস্থা থেকে ইতিকে নামিয়ে ওখানে শুইয়ে রেখেছে।

তিনি আরও জানান, তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইউডি মামলা হওয়ার কথা বলে তিনি আরও জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু