শংকর পাল সুমন, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
মাধবপুরে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় ও সোনাই নদীর তীর ভেঙে প্লাবিত হয়ে তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভেঙে পড়েছে স্থানীয় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কৃষ্ণপুর এলাকায় ব্রিজ ধসে বন্ধ রয়েছে তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কে যান চলাচল। এতে চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বহরা, চৌমুহনী, আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান জানান, দীঘিরপাড় গ্রাম এলাকায় সোনাই নদীর তীরের ভাঙনে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস হয়ে শাহপুর যাওয়ার রাস্তার পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দীঘিরপাড়, সুলতানপুর, কুটানিয়া হরিশ্যামা গ্রামের লোকজন রয়েছে যাতায়াত দুর্ভোগে। দীঘিরপাড় গ্রামের সোহেল মিয়া, মনির মিয়াসহ কয়েকজনের ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। গ্রামের ১৫টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এলাকার অধিকাংশ জমিতে বালু উঠে জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।
বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের লোকজন জানিয়েছেন, এবার সোনাই নদীর ভাঙনে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। মনতলা ভূমি অফিসের তহসিলদার আব্দুল কাদের জানান, বন্যায় তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কের কৃষ্ণপুর ব্রিজ ধসের কারণে আভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধসে পড়া ব্রিজের উপর স্থানীয় কিছু লোক বাঁশ ফেলে সিএনজি, মোটরসাইকেল পারাপার করে ১০/ ২০ টাকা আদায় করছে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম চৌধুরী জানান, শাহপুর, জালোয়াবাদ, নোয়াগাঁও গ্রামের রাস্তাঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী জানান, তেলিয়াপাড়া-হরষপুর সড়কে জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এলজিইডির হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিক বলা হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত চার মেট্রিক টন চাল ও ঘর হারাদের প্রদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামীণ ভাঙা রাস্তা বিশেষ টিআর বরাদ্দের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলছে।
