মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে সাতক্ষীরা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ২১:১৬

দীর্ঘ আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা থেকে দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান না করলে পুনঃরায় কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরা পরিবহন মালিক সমিতি। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক সাইফুল করিম সাবু।

তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) যশোরে সাতক্ষীরার পরিবহন কাউন্টারে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন যশোর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। সে কারণে সাতক্ষীরা থেকে পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। এর কারণ গত ৫ আগস্ট শ্যামনগরে শ্রমিকদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। তখন শ্যামনগরের উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকরা যশোরের গাড়ি শ্যামনগর যেতে নিষেধ করে। নিষেধ উপেক্ষা করে যশোরের গাড়ি কালিগঞ্জে আটকে দেন শ্রমিকরা। পরে ছেড়েও দেন।

তিনি বলেন, সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যশোর মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতারা যশোরে থাকা সাতক্ষীরার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সে কারণে পরিবহন মালিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখে। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তীতে পুনঃরায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে আপাতত পরিবহন চলবে।

সাতক্ষীরা পরিবহন পরিচালক কমিটির সভাপতি তাহমিদ সায়েদ চয়ন বলেন, বাস মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের পরিবহনের ওপর চাপ পড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান না করলে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে যশোরে থাকা সাতক্ষীরার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে তালা লাগানোর প্রতিবাদে সকাল থেকেই পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সাতক্ষীরা পরিবহন মালিক সমিতি। এর ফলে দূরপাল্লার সব গণপরিবহন বন্ধ রাখে সাতক্ষীরা পরিবহন মালিক সমিতি। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে কোনো পরিবহন সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। 

এদিকে হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। সবাই কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তালার অগোলঝাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন নামের এক যাত্রী জানান, আমি ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে কাউন্টারে আসলে তারা কোনো টিকিট দিচ্ছে না। এখন খুব বিপদে পড়ে গেলাম। একই রকম মন্তব্য করেন বিপাকে পড়া যাত্রী তুষার সরকার, বিপ্লব হোসেন, জেসমিন নাহারসহ কয়েকজন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি