মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খালে গোসল করতে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই, প্রাণে বাঁচলেন যুবক

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৩:১৩

সুন্দরবনের খালে গোসল করতে নেমে কুমিরের সাথে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন অনার্স পড়ুয়া এক যুবক। মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) দুপুরে সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে গোসল করতে নামলে একটি কুমির আক্রমণ করে ওই যুবককে। এরপর ধস্তাধস্তি ও চোখে আঙ্গুল দিয়ে কুমিরটিকে দুর্বল করতে পেরে প্রাণে বেঁচে এসেছে যুবকটি।

জানা গেছে, কুমিরের কামড়ে আহত রাজু হাওলাদার পূর্ব সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের পূর্ব ঢাংমারী এলাকার খ্রীষ্টানপাড়ার বাসিন্দা নজির হাওলাদারের ছেলে। তিনি খুলনার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনার্স পড়েন। তাদের বাড়ীটি পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী খালের পাশেই। বাড়ীতে আসার পর রাজুকে খালে নেমে গোসল করতে নিষেধ করেন তার পরিবার। তারপর সেই নিষেধ না মেনে খালে গোসল করতে নামলেই এ ঘটনা ঘটে। কুমিরের কামড়ে রাজুর পায়ের ক্ষত জায়গায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সে এখন সুস্থ ও বাড়ীতে আছেন। 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) ঢাংমারী ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. সাইফুল বারী জানান, সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে মঙ্গলবার দুপুরে গোসল করতে নামেন পূর্ব ঢাংমারী এলাকার খ্রীষ্টান পাড়ার বাসিন্দা নজির হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার। বনের খালে গোসল করতে নামতেই একটি কুমির তার উপর আক্রমণ করে। এ সময় কুমিরটি রাজুর ডান পায়ের হাটুর উপরের দিকে কামড়ে ধরে। তখন রাজু কুমিরটির সাথে ধস্তাধস্তি করার এক পর্যায়ে কুমিরের চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়। কুমিরের চোখে আঘাত করলে কুমিরটি রাজুর পায়ের কামড় ছেড়ে দেয়। তখন সে দ্রুত উপরে উঠে আসে। আর কুমিরটি খালে ডুব দিয়ে চলে যায়। 

তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় খালে ভাটা থাকায় পানি কম ছিলো, ভরা জোয়ার থাকলে কুমির কামড়ে ধরে পানির গভীরে নিয়ে গেলে বাঁচার কোন সম্ভাবনাই থাকতো না। 

এদিকে বন কর্মকর্তা মো. সাইফুল বারী বলেন, ঢাংমারী খালে প্রায় সব সময়ই বড় বড় দুইটি কুমির দেখা যায়। তাই বনবিভাগের পক্ষ থেকে খালের পাড়ের আশপাশের মানুষদেরকে খালে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়তই। তারপরও তারা তা না শুনে খালে গোসল ও মাছ অরতে নামেন। যার ফলে মাঝে মধ্যেই এমন দুর্ঘটনার শিকার হন এখানকার মানুষেরা।

ইত্তেফাক/ইআ