শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খাদ্যের বাড়তি খরচ: ঋণ সংকটে পড়তে পারে অনেক দেশ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ০৮:০৪

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অনেক দেশকে খাদ্য কিনতে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক দেশ যে বাড়তি ব্যয় করছে তার পরিমাণ দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান। কিছু দেশ এই অতিরিক্ত ব্যয়ভার মেটাতে সক্ষম হলেও অনেক দেশ এর প্রভাবে ঋণসংকটে পড়তে পারে। অর্থাৎ তাদের পক্ষে ওই বাড়তি ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হবে না। 

বিশ্বব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২২ সালের ২৯ জুলাই মাসে কৃষিপণ্যের মূল্যসূচক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। ভুট্টা ও গমের মূল্যসূচক যথাক্রমে ১৬ ও ২২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের খাদ্যনিরাপত্তাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায় খাদ্য আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি সারের মূল্যবৃদ্ধিকে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সার উৎপাদনের প্রধান উপকরণ হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। যুদ্ধের প্রভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে যুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও কিছু দেশে অভ্যন্তরীণ কারণেও পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে লেবাননের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাজধানী বৈরুতে দুই বছর আগে খাদ্যগুদামে বিস্ফোরণ ঘটলে তাদের খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বিনষ্ট হয়। এ বাস্তবতায় চলতি বছরের মার্চ-জুন সময়ে দেশটির খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩৩২ শতাংশ। একই সময়ে আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২৫৫ শতাংশ, ভেনিজুয়েলার ১৫৫ শতাংশ ও তুরস্কের ৯৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে কোন দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কতটা সেটির তালিকা দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি যে আট শতাংশ ছাড়িয়েছে সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু উন্নয়নশীল বিশ্বেই নয়, উন্নত দেশেও খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। 

মার্চ থেকে জুন মাসের তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় সব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তি। অনেক দেশেই তা দুই অঙ্কের ঘরে উঠেছে। উচ্চ আয়ের দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এই প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৭৯ শতাংশ উচ্চ আয়ের দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি। তবে কিছু আশার বানীও রয়েছে। গত ২২ জুলাই ইউক্রেন-রাশিয়ার এক সমঝোতার মাধ্যমে বলকান সাগর দিয়ে ২ কোটি টন শস্য পরিবহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে এই শস্য পরিবহণও শুরু হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলের খাদ্য-শস্য এশিয়া, আফ্রিকাসহ মধ্যপ্রাচের দেশগুলোতে নিয়মিত রপ্তানি হতো। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। 

বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস শিরোনামে অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব আরো বেশ কিছুদিন থাকতে পারে। এই বছর শেষ নাগাদ উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব থাকবে। আগামী বছর এই হার কমে আসবে। তবে পরিস্থিতি করোনার আগের মতো হতে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/ইআ