জীবননগরে আর্সেনিকোসিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২১:৩২

নিরাপদ খাওয়ার পানির সংকট

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

জীবননগরে আর্সেনিকোসিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মূলত নিরাপদ খাবার পানির সংকটেই এ অবস্থা। নিরাপদ খাবার পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আর্সেনিকে ভরা লাল টিউবওয়েলের পানিই পান করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। উপজেলায় বর্তমানে ১১৮জন আর্সেনিকোসিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে উপজেলায় নলকূপের পানিতে আর্সেনিক শনাক্তকরণের জন্য বাংলাদেশ আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় ১২জন সুপারভাইজার ও ৪৫০ জন মাঠকর্মী নিয়োগ করে কাজ শুরু করে। চার মাস জরিপ করে উপজেলার ৮০টি গ্রামের ১১ হাজার ৬৪০টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩০টি নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ধরা পড়ে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা আর্সেনিকযুক্ত নলকূপ লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে দেন; কিন্তু ৯-১০ বছর পরই আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের লাল রং উঠে যাওয়ার কারণে বর্তমানে ওইসব নলকূপের পানি ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া গত ১৫ বছরে উপজেলায় আরো প্রায় ৭ হাজার নলকূপ নতুন করে বসানো হয়েছে। কিন্তু নতুন করে বসানো এ নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের লাল রং উঠে যাওয়ার কারণে জেনেশুনে এবং নতুন করে বসানো অপরীক্ষিত নলকূপের পানি না জেনে পান করায় উপজেলায় আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন,  যে সকল মানুষ আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত তাদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রি চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ১১৮জন আর্সেনিক রোগী ফ্রি চিকিত্সা নিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি জানা ছিল না। তবে খুব দ্রুত বিভিন্ন গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে এবং আর্সেনিক শনাক্তকরণের পর আর্সেনিকযুক্ত নলকূপে লাল রং করে দেওয়া হবে।