বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রবাস কত সুখের!

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ১২:০১

মানুষ জীবিকার সন্ধানে, উন্নত বাসস্থান, উন্নত পরিবেশ আর ভবিষ্যৎ সুখের কথা চিন্তা করে দেশ থেকে দেশান্তর হয়। কখনো কখনো নিজ দেশে নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে কিংবা চাকচিক্য জীবনের আশায়  ঘর ছেড়ে, পরিবার পরিজন ছেড়ে, প্রিয় মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে প্রবাস জীবন বেছে নেয়। আর এভাবেই একজন মানুষ প্রবাসী হয়। 

দেশ ত্যাগের পূর্বে দেশের প্রতি যতটা ঘৃণা থাকে বিমানে উঠার সাথে হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে যায় প্রিয় মানুষদের মলিন মুখখানি বার বার হৃদয়পটে ভেসে উঠে, স্মৃতিবিজড়িত সময়গুলো মূর্তগুলো বার বার নাড়া দেয়, জমাট বাঁধা কান্না গুলো হু হু করে কেঁদে উঠে, এভাবেই শুরু হয় প্রবাসী জীবনের আর্তনাদ। 

নিজ মাতৃভাষার বাইরে অন্য ভাষাভাষী মানুষের সংস্পর্শ, অন্য সংস্কৃতির মানুষদের মিলনমেলায় মনে হয় অন্য একটা জগৎ, নিজেকে মানিয়ে নিতে নিতে কেটে যায় মাস খানেক। মায়ের হাতের সুস্বাদু রান্না আর অলস সময়ে বন্ধুদের আড্ডা স্মরণ করিয়ে দেয় প্রবাসের কাজের নিয়মনীতির পরিধির কথা। কাজ আর বাসা অবসর সময়ে টেলিফোন ডায়েরীর যত যত নাম্বার ফোন করে কেটে যায় আলস্য দুপুর রাত্রি। বৈকালিক পার্কে যাওয়ার পথ ধরে মনে হয় এযেনো এক অচিনপূরী, যেখানে ধুলা আর কাদা রাস্তায় বাতাসের গন্ধে এ গ্রাম ও গ্রাম দাপিয়ে বেড়াতাম পিছ ঢালা এই মসৃণ পথে কোন গন্ধ- সুবাস নেই মনের অজান্তে এভাবেই চোখের কোণে জল আসে আর আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় আমি তো প্রবাসী। 

মাস যায় বছর যায় পরিবারের সুখের কথা ভেবেই এভাবে প্রবাসীরা বঞ্চিত হয় ঈদ,পূজা পার্বণে প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগা-ভাগি করতে না পারার কষ্ট নিয়ে। পরিবারের বখাটে ছেলেটাও প্রবাসে কতটা নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করে। পরিবারের সবচেয়ে অদূরে ছেলেটাও যে কিনা জীবনে নিজের কাপড়ও নিজে গোছায় নি সে কিনা আজ রান্না করে, ঘর পরিষ্কার রাখে, সময় মতো কাজে যায় আর মাস শেষে মাইনেটা পাঠিয়ে দেয় প্রিয়জনের কাছে। আর এভাবেই প্রবাসীরা পরিবার সচ্ছল করার পাশাপাশি অবদান রাখে জাতীয় অর্থনীতিতে।

আজকাল প্রায়ই কম বয়সেও স্টোক করে মারা যাচ্ছেন অনেক প্রবাসী। একেতো দূর পরবাসে প্রিয়জনের কাছে না থাকার বেদনা অন্যদিকে পরিবারের চাপ আরও চাই। সবার অভাব দূর করতে করতে নিজের চাহিদাটাও ভুলে যাওয়ার নামই প্রবাস। নিজে যতটা দুঃখে কষ্টে থাকুক না কেনো টেলিফোনের ওপাশে সবসময় সুখটা দেখার নামই প্রবাস।

 প্রবাস নিয়ে গল্প হয়, উপন্যাস হয়, ছায়াছবি হয় কিন্তু প্রবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না কারণ প্রবাস জীবনটা একটা জেলে মতো চাইলেই দেশে যাওয়া যায় না। অনেক অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অনেকই প্রবাস জেলকে বেছে নেন। তাই এখান থেকে পালাবার পথ নেই।

প্রবাসীরা যা পেয়েছে তা হলো রেমিটেন্স যোদ্ধার খেতাব। এটাই একজন প্রবাসীর গর্ব, অহংকার। সত্যিকার অর্থে প্রবাস কত সুখের ? প্রশ্ন আমার, আপনার একজন প্রবাসীর।

লেখক: ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ, প্যারিস, ফ্রান্স।

ইত্তেফাক/এমআর