ধ্বংসের পথে ৩শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘শিবমন্দির’

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৮:১৬

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৩শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গছাহার জমিদার বাড়ি শিব মন্দিরটি অবহেলা আর অযত্নে আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। তাই আজ মন্দিরটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কারে দাবি উঠেছে।

উপজেলার আলোকডিহি উইনিয়নের গছাহার গ্রামে শিববাড়ি নামক জায়গায় ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দিরটি অবস্থিত। শতবর্শী প্রাক্তন শিক্ষক গেনেন্দ্র নাথ দাস, সচিন চন্দ্র দাস (৯০), প্রাক্তন শিক্ষক সত্যনারায়ণ দাস (৮৫), নন্দ্বীশ্বর দাস,(৮০), সুকুমার চন্দ্র দাসসহ (৭৫) অনেকের সাথে কথা হলে তারা কেউ শিব মন্দিরটি স্থাপিতর সঠিক সময়কাল জানেন না। কোন নামফলকও নেই। 

তারা জানান, আমরা আমাদের ঠাকুরদা-ঠাকুরদাদীর কাছে শুনেছি ব্রিটিশ আমলের পূর্বে তৎকালীন জমিদাররা তাদের শাসন আমলে সকল ধরণের পূজা-অর্চনা করার জন্য বিভিন্ন জীবজন্তুর ছবি খচিত ইটদ্বারা ও দুর্লভ মডেলের আকর্ষণীয় শিব মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করে। জমিদার বাড়ি মন্দিরটির ভিতরে প্রায় ১২টি প্রকষ্ঠ বা কুঠি ছিল। এছাড়া আশ-পাশে অসংখ্য ছোট-বড় মন্দির এবং বৃহৎ পুকুরও ছিল। মন্দিরে বিশাল আকৃতির একটি কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ ছিল। সংরক্ষণের অভাবে তা চুরি হয়ে যায়। মন্দিরে শিবরাত্রিতে (শিব চতুর্দশী) মাস ব্যাপী মেলা হত। শিব মন্দিরটি বয়স প্রায় ৩শ’বছর তো হবেই।
 
পরবর্তীতে শিবমন্দিরটির আশ-পাশের তাঁতীপাড়া, ক্ষেনপাড়া, বানিয়াপাড়া, ক্ষত্রিপাড়ায় আমরা যারা হিন্দু সম্প্রদায় তারাই আমরা কোন রকমে ওই মন্দিরে শিবরাত্রিতে (শিব চতুর্দশী) পূজা-অর্চনা করে থাকি। এছাড়াও প্রত্যেক অমাবস্যা রাতে পূজা করে থাকি।

হিন্দু স্থাপত্য ধরে রাখতে স্থানীয় ভাবে কমিটি গঠন করা হয় এবং সংস্কারের চেষ্টা চলছে। সভাপতি সুকুমার চন্দ্র রায়, সহ সভাপতি শ্যামল কুমার দাস, সম্পাদক অন্বয় কুমার দাস জানান, ইতিপূর্বে  মন্দিরকে ঘিরে প্রতিমা পূজা, শিবপূজাসহ ৩০ দিন ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা স্থানীয়রা কোন রকমে নিজের আর্থিক সহায়তায় শিব মন্দিরে শিবরাত্রিতে (শিব চতুর্দশী) পূজা করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। প্রাচীন শিব মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে অবকাঠামো খুলে খুলে ভেঙ্গে পড়ছে। মন্দিরের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। ত

তথ্য মতে, দেবত্তর পুকুরসহ ৬০ একর সম্পত্তি ভূমিগ্রাসিরা মালিকানায় নিয়ে ভোগ-দখল করছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে কয়েক বার নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে দেবত্তর সম্পত্তি উদ্ধার ও মন্দির সংস্কারের চেষ্টা করেও অজ্ঞাত কারণে তা আর সংস্কার ও উদ্ধার হয়নি। বর্তমানে অবহেলা আর অযত্নে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিব মন্দিরটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। দেবত্তর শুধুমাত্র ২৪ শতক জমি রয়েছে। ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়  প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিয়ে শিব মন্দিরটি সংস্কার ও দেবত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের জোর দাবী জানান।

ইত্তেফাক/এএইচপি