শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এটিএম বুথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ২০:১২

রাজধানীর উত্তরায় এটিএম বুথে টাকা ওঠানোর সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম শরীফ উল্লাহ (৪৪)। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে তিনি টাইলসের ব্যবসা করতেন। টঙ্গীর দেওড়া এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। নিহত শরীফ উল্লাহর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মধুপুর গ্রামে। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে এ ঘটনা ঘটে। শরীফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা আব্দুস সামাদ নামের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। 

নিহত শরীফের ভাতিজা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে তার স্যানিটারি দোকান বন্ধ করে রাতে বাসায় ফেরার পথে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পাই।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘হামলাকারীরা এটিএম বুথের ভেতর শরীফের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার ডান পাশের কানের নিচে ও গলায় ধারালো অস্ত্রের বড় জখম এবং বাম পাশের কানের নিচে দু’টি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা গেছেন।

ওসি আরও বলেন, ছিনতাইকারী আব্দুস সামাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন-নিহত শরীফের কাছ থেকে কোনো টাকা ছিনতাই করতে পারেনি। তবে ছিনতাইয়ের সময় তার সঙ্গে আরও দুই একজন ছিনতাইকারী জড়িত থাকতে পারে। এ জন্য আমরা এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছি। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার উল্লাহ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, জানাজা শেষে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মধুপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে। 

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মোর্শেদ আলম বলেন, ওই ছিনতাইকারীর বাসা টঙ্গীতে। এই গ্রুপটি টঙ্গী থেকে রাতে উত্তরা এলাকায় প্রবেশ করে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন রাতে ওই ছিনতাইকারী বেশ কয়েকটি এটিএম বুথের সামনে রিকশায় করে পর্যবেক্ষণ করে। পরে সোনারগাঁও জনপথ রোডের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে এসে দেখে যে একজন ব্যক্তি টাকা তুলতে বুথে প্রবেশ করছে। তখন সে বুথের ভেতর ঢুকে ব্যবসায়ী শরীফ উল্লাহকে এলোপাথাড়ি ছুরি মারতে থাকে। এ সময় বুথের সিকিউরিটি গার্ড বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর আব্দুস সামাদ ছুরি নিয়ে বুথ থেকে বের হওয়ার পর জনতা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। 

ইত্তেফাক/এএএম