শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাণীনগর হাসপাতালে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন চালু

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৯:১৭

অবশেষে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে প্রথম সিজারিয়ান মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ্য আছেন। 

প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. বারী খন্দকার, অ্যানাসথেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. কাজী শাহাবুলবুল। এসময় থিয়েটারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন, আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. প্রান্তর,  ডা. জান্নাত,  ওটি এসএসএন সীমা, স্টোর ইনচার্জ সাদেকুল, মিল্টন। এই কার্যক্রম চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে এই কার্যক্রম চালু হওয়া মানে এই উপজেলার মানুষের জন্য আরেকটি মাইল ফলক। আজকাল তো সিজারিয়ান ছাড়া চিকিৎসকরা কিছুই বোঝে না। অন্তত কিছু গরীব ও অসহায় মানুষ চিকিৎসক নামে কসাইদের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তারা খুব সহজেই সরকারি হাসপাতালে এসে বিনামূল্যের এই সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এই কার্যক্রমটি যেন হাসপাতালে নিয়মিত চালু রাখা হয় সেই বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে সারাদেশে চলমান সেবা সপ্তাহের অংশ হিসেবে উপজেলাবাসীর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এই ছোট্ট উপহার চালু করা হলো। বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি সিভিল সার্জন ডা. আবু হেনা মো. রায়হানুজ্জামান স্যারকে, যিনি সর্বদাই এই কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে আমাদের টিমকে উৎসাহিত করেছেন। উপজেলার যে কেউ এখন হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে উন্নতমানের এই সেবা নিতে পারবেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে হাজার হাজার টাকা নষ্ট না করে সরকারি হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে অভিজ্ঞ সার্জনদের কাছ থেকে উন্নতমানের সিজারিয়ান অপারেশনের এই সেবা নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে এই সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম চালু উপজেলাবাসীর সময়ের দাবি ছিল। তবে এই কার্যক্রম নিয়মিত করতে হাসপাতালে আরও কিছু যন্ত্রাংশসহ উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশসহ উপকরণগুলো পাওয়া গেলেই হাসপাতালে নিয়মিত ভাবে আধুনিক যন্ত্রাংশের মাধ্যমে মানসম্মত এই সেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অপারেশনের পর মা ও শিশুর সমস্ত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধও হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।’ 

ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী, উপজেলাবাসী চোখ বন্ধ করে হাসপাতালে এসে এই অধিক গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি গ্রহণ করে উপকৃত হবেন। কারণ প্রতিটি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী যে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

ইত্তেফাক/মাহি