বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইব্রাহিমের ডাক শুনলেই ছুটে আসে বনের পাখি

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৭:০৪

নাম ইব্রাহিম শেখ (১৩)। বনের পাখিদের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তার দারুণ সখ্য। অভিনব কায়দায় মুখ দিয়ে শিস বাজিয়ে ডাক দিলেই পাখিরা বুঝতে পারে তাদের ডাকা হচ্ছে। কাছাকাছি বা গাছের ডালে থাকা পাখিরা উড়ে এসে বসে ইব্রাহিমের কাঁধ মাথা ও হাতে। ইব্রাহিমের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাঔজানি গ্রামে। তার বাবার নাম ইসরাফিল শেখ। পাখির সঙ্গে অভিনব সখ্যতার খবর এখন এলাকার মানুষের মুখেমুখে। অনেকেই দেখতে আসেন ইব্রাহিম ও তার পাখিদের।

ইব্রাহিমের প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ জানান, পাখির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে শিশু ইব্রাহিমের। পাখিরা তাকে অনুসরণ করে। আনুমানিক ১০টি শালিখ পাখি আছে এমন। বনের এই পাখি সব সময় তার সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। সে পাখিদের খাবার দেয় যত্ন নেয়। ঝড়ে বাসা ভেঙে গেলে পাখির বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে রেখে সেবাযত্ন করে বনে ফিরিয়ে দেয় সে। সে ডাক দিলেই পাখিরা চলে আসে। ইব্রাহিম শেখ জানায়, এক ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে স্কুলকে বিদায় বলেছে। পড়াশোনা না হওয়ার পেছনেও আছে এই পাখিপ্রেম। ছোটবেলা থেকে পাখির প্রতি তার ভালোবাসা। বছরখানেক আগে ঝড়ে বাসা ভেঙে আহত দুটি শালিখ পাখির বাচ্চাকে উদ্ধার করে সেবাযত্ন করে বড় করে তোলে সে। পাখি দুটি পোষ মেনে যায়। সারা দিন ঘুরে ফিরে আবার বাড়ি ফিরে আসে। ডাকলে চলে আসে। সব সময় তার পেছন পেছন হেঁটে বেড়ায়। এই পাখির দেখাদেখি আরো পাখি তার কাছে আসতে থাকে। তার মতে ভালোবাসলে ও ভীতি দূর করতে পারলে পাখিরা নিরাপদ মনে করে। এভাবে যে কোনো পাখি কাছে ডেকে আনা সম্ভব।

পিতা ইসরাফিল শেখ বলেন, পাখির জন্য ছেলের পড়ালেখা হলো না। সারা দিন পাখির পেছনে ছুটে বেড়ায়। পাখি তার ধ্যান-জ্ঞান, পাখি তার নেশা। পাখিকে খাবার দেয় যত্ন করে। পাখির সঙ্গে কথা বলে। পাখির সঙ্গে কথা বলার ধরন দেখে মনে হয় পাখির সব ভাষা বোঝে সে। মা মোরিনা বেগম বলেন, ছেলেটির পাখিপ্রেম দেখে একসময় বিরক্ত লাগত। বকাবকি করতাম। এখন আর কিছু বলি না। পাখির খাবার কিনতে টাকা দিতে হয় নিয়মিত। মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ বিপ্লব রেজা বিকো বলেন, শিশু ইব্রাহিম শেখের পাখির প্রতি এই ভালোবাসা মানুষকে অবাক করে। বনের পাখিকে ডেকে কাছে আনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পাখির সঙ্গে এই শিশুর বিরল সখ্যতার গল্প মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

ইত্তেফাক/ইআ