বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৪ বছরেও শেষ হয়নি মাদরাসার ভবন নির্মাণ, পাঠদান ব্যাহত 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৪:৫৯

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চরহোগলাবুনিয়া আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজ ৪ বছরেও শেষ না হওয়ায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। দিন যত যাচ্ছে রোদ-বৃষ্টিতে ভোগান্তি তত বাড়ছে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের চরহোগলাবুনিয়া আজিজিয়া দাখিল মাদরাসার ৪ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০১৮ সালে শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সরকারিভাবে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতের মাধ্যমে ভবনটি নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তিতে বরাদ্দ হয় ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। পরবর্তী সময়ে আরও ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ দুই কিস্তিতে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্ধ হয়। মেসার্স আনিস ট্রেডার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করে। ৯ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ৪ বছরেও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

আরও জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের পাশে বিকল্প ব্যবস্থায় একটি টিনশেডের ছাপড়া ঘরে দুই শিফটে চলছে পাঠদান। 

৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, মিস সুমি আক্তার এবং তামিমা বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষে পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। টিনের তাপে প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়।’ 

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আবুল হাসান বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে ভবনের কাজটি চলমান রয়েছে। কষ্ট করে বিকল্প ঘরে পাঠদান দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি কিছুটা কম হচ্ছে। নতুন ভবন হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করছি।’   

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘উপজেলায় চলমান নতুন ভবনের কাজগুলো সর্ম্পকে ইতোপূর্বে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবার লিখিত আকারে জানানো হবে।’ 

জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আ স ম জুলফিকার হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘চরহোগলাবুনিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের কাজটি টেন্ডারের পরেই মহামারি করোনা ও দুই বারে বরাদ্দ হওয়ার মাঝ পথে পাইল নির্মাণের কাজ করতে হয়েছে। ফলে বিলম্ব হয়েছে কাজটিতে। তবে, ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজটি শেষ হবে।’

ইত্তেফাক/মাহি