আমতলীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৫

লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে আমতলী নিম্নাঞ্চল। আমতলী পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তলিয়ে গেছে আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক। অতিবর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। এতে দুর্ভোগে পরেছে আমতলীর অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

আমতলীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আউশের ধান ও আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। তারা অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে। পানিতে মাঠ-ঘাট থই থই করছে। অতি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে জলকপাটগুলো দিয়ে তেমন পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা। জোয়ারের পানিতে বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম ঘটখালী, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া এলাকার পায়রা সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধ না থাকায় গাজীপুর বন্দর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ী কালাম হাওলাদার। আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। 

রবিবার বিকালে আমতলী পায়রা ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষ বুক পানি পার হয়ে সড়কে আসছেন। যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। পায়রা ফেরিঘাটের পরিচালক মো. রাহাত দফাদার বলেন, জোয়ারের পানিতে ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ফেরির গ্যাংওয়ে সংস্কার করা জরুরি।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, পানি নিস্কাশন না হওয়ায় কৃষকের আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পানির নিচে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চর ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে পানি ভিতরে পানি প্রবেশ করেনি। ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আগেই সংস্কার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি