বাজে সিদ্ধান্তই ভোগাচ্ছে তামিমকে

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২২:২০

  স্পোর্টস রিপোর্টার

কখনোই মনে হচ্ছে না যে, তামিম ইকবাল ফর্মের বাইরে আছেন। গত কয়েক বছর ধরে যেমন খেলছেন, তেমন ধীরে শুরু করছেন। প্রতি ম্যাচেই কমপক্ষে চল্লিশ মিনিট উইকেটে থাকছেন। এরপরই হঠাত্ আউট হয়ে যাচ্ছেন। স্কোর কিছুতেই বড় হচ্ছে না। আরো একটা বিশ্বকাপে এসে আরো একবার রানখরায় ভুগছেন তামিম।

নিজের এই খারাপ সময়টার জন্য নিজেরই বাজে সিদ্ধান্তকে দোষ দিচ্ছেন বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আউটটাকে বলছেন, একটা ভালো বলের কৃতিত্ব। বাকি দুটো ম্যাচে নিজের সিদ্ধান্তের দোষ দেখছেন এই বাহাতি ওপেনার, ‘আমার প্রস্তুতির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আসলে বাজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। প্রথম ম্যাচটার আউটকে আমি হিসাব করছি না। কারণ, ওটা খুব ভালো একটা ডেলিভারি ছিল। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে নির্দিষ্ট বলে আমি বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আরেকটা ব্যাপার হলো, দুই ম্যাচেই আমি একটা করে ভুল করেছি এবং সেটাতেই আউট হয়ে গেছি।’

এই ভুলদুটি বাদ দিলে তামিম মনে করছেন না যে, তিনি খারাপ খেলছেন। তবে ক্রিকেটে এমনটা হতে পারে বলেই ব্যাপারটাকে সহজে মেনে নিচ্ছেন তামিম। তিনি মনে করেন, রান তার আশেপাশেই আছে, ‘আমি যতক্ষণ ব্যাট করছি, ভালোই করছি। এরপর একটা ভুল করছি এবং আউট হয়ে যাচ্ছি। ক্রিকেট এরকমই। এটা মেনে নিতে হবে। আমি আশা করি, আমি যেনো এটা ইতিবাচক ভাবে নিতে পারি। কারণ, আমি জানি, রান আশেপাশেই আছে। আমি রান করতে পারি। আমি বিশ্বের সেরা আক্রমণের বিপক্ষেও রান করেছি। ফলে আমি আবার সেটা করতে না পারার কোনো কারণ দেখি না।’

তবে একটা ব্যাপার, তামিমের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তার বিশ্বকাপের স্মৃতি কখনোই ভালো না। ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে তবু মনে রাখার মতো কিছু আছে। কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপে একেবারেই ভালো করতে পারেননি। অথচ তার পরের চার বছরে তিনি ছিলেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ওপেনার। এই সময়ে ৭টা সেঞ্চুরি ও ১৮টা ফিফটি করেছেন তিনি।

তারপরও আরেকটা বিশ্বকাপে ২০১৫ সালের স্মৃতি ফিরে আসাটা তামিমের জন্য ভালো হচ্ছে না। তামিম নিজেই বলছিলেন, ২০১৫ তার জন্য কতোটা ভয়ঙ্কর একটা স্মৃতি ছিলো, ‘আসলে আমার প্রত্যাশাই আমার ওপর চাপ তৈরি করছে। যারা আমার এই কথা পড়বেন, তারা বুঝতে পারবেন না যে, আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি। যারা আমার কাছাকাছি থাকেন, তারা বুঝতে পারবেন যে, আমার এখন কেমন লাগছে। ২০১৫ সালে আমি বারবার ফিরে যাচ্ছি। কারণ, সে বছর আমি ভয়ানক ভুগেছিলাম। আমার স্ত্রী ও পরিবারও ভুক্তভোগী ছিলো। ওটা আমার জীবনে একটা কালো অধ্যায়। আমি ওই অধ্যায়টা আবার ফিরে পেতে চাই না।’