রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দুই মাসে গড় বৃষ্টিপাত ২.৫৫ মিলিমিটার, পানি সংকটে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষকরা 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ২২:৪৩

চলতি বছরে ঈশ্বরদীতে জুন ও জুলাই মাসে গড় ২.৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ২১.৭০ ভাগ। চাষাবাদে দেশের অন্যতম এলাকা বলে খ্যাত ঈশ্বরদীতে এবারে পানি সংকটের কারণে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

খরার তীব্রতায় ইতোমধ্যে আগাম শিম, মূলা, ঢ্যাঁড়সসহ সবজিতে ভাইরাস জনিত রোগ সংক্রামিত হয়েছে। পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া এবং রোপা আমন ধানের চারা রোপণে কৃষকরা পড়েছেন চরম সমস্যায়। ইতোমধ্যে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যে কারণে রোপা আমন চাষের এলাকা কমে যেতে পারে। ধানসহ সকল সবজি উৎপাদনে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকা করছে কৃষি বিভাগ। ঈশ্বরদী কৃষি অফিস, আবহাওয়া অফিস এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের নাজমুল হক ৪২ বছরের মধ্যে আষাঢ়- শ্রাবণ মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়নি জানিয়ে বলেন ২০২১ সালের জুন মাসে ১৪.৩ এবং জুলাই মাসে ৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। দুই মাসে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১.৭৫ মিলিমিটার। ২০২২ সালের জুন মাসে ২.৮ এবং জুলাই মাসে ২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দুই মাসের গড় বৃষ্টিপাত  মাত্র ২.৫৫ মিলিমিটার। যা বিগত বছরের মাত্র ২১.৭০ ভাগ।

পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অল্প পানিতেই পাট জাগ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ছবি- ইত্তেফাক

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও ঈশ্বরদীর জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ জানান, এই মূহুর্তে কৃষকের অবস্থা ভয়াবহ। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। অধিকাংশ খাল, বিল, ডোবা ও জলাশয়ে পানি নেই এবারে। সুগারমিল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে পাটের উচ্চ মূল্য থাকায় ঈশ্বরদীতে আগের চেয়ে পাট চাষ বেড়েছে। জাগ দেওয়ার পানির অভাবে ক্ষেতের পাট কাটা হচ্ছে না। মাঠেই শুকিয়ে খড়ি হচ্ছে। পানির অভাবে আমন ধান রোপণও পিছিয়ে যাচ্ছে। খরায় সবজিতে ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে। অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় মরে যাচ্ছে শিম গাছ। শিমগাছের পাতা হলুদ, ছিদ্র ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। তদুপরি পোকার আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে। খরায় ঢ্যাঁড়সসহ আরও অনেক সবজিতে ছত্রাক আক্রমণ করেছে। এদিকে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন মহাসংকটে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার জানান, পাট জাগের জন্য পানি নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তীব্র খরার কারণে ঢ্যাঁড়স, আগাম শিম, মূলাসহ শাক-সবজিতে বিভিন্ন রকম ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে ফলনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। রোপা আমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনাবৃষ্টির পাশাপাশি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রোপা আমন চাষের জমির এলাকা কমে যাবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে আমরা আশংকা করছি। মাঠের যে পরিস্থিতি দেখছি উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।

ইত্তেফাক/ইআ