নেয়ামত উল্লাহ
লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রাক বাছাইয়ের ফিরতি লেগের খেলা দেখতে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন বিপুল দর্শক। সংশ্লিষ্টদের ধারণা হাজার দশেক দর্শক এসেছিলেন মাঠে। বিশ্বকাপ বাছাই নিশ্চিত করার সম্ভাব্য মাহেন্দ্রক্ষণটি হেলায় হারাতে চাননি বাংলাদেশ ফুটবলের ভক্ত-সমর্থকরা।
ঈদ উল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকা এখনো তার পুরনো রূপে ফিরেনি। তার উপর আবার এখন ক্রিকেট বিশ্বকাপের মৌসুম। সবকিছু মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক খরার শঙ্কাটা অমূলক ছিল না। তবে সব শঙ্কাকে মিথ্যে প্রমাণ করে মাঠে হাজির হয়েছিলেন প্রায় হাজার সাতেক দর্শক।
তাদেরই একজন ইশমাম সরকার। জামাল ভুঁইয়াদের সমর্থন জানাতে ছুটে এসেছেন সুদূর উত্তরা থেকে? শুধু একাই আসেননি তিনি। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন আরো দুই ফুটবল ভক্ত রাফায়েত আর রাকিবকেও?
ইউরোপীয় ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থক ইশমাম জানালেন, দেশীয় ফুটবলেও দারুণ আগ্রহ তার। বললেন, ‘বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরেই ভালো ফুটবল উপহার দিচ্ছে। আজ লাওসের বিপক্ষে খেলায় তাই দলকে সমর্থন যোগাতে এসেছি। আসার পথে যানজট পোহাতে হলেও দল জিতলে আসাটা সার্থক হবে। আশা করছি লাওসকে হারিয়েই আমরা বাছাই পর্বে জায়গা করে নেবো।’
বনশ্রী থেকে জামাল-জীবন-রবিউলদের সমর্থন যোগাতে আসা রাসেল আহমেদের আকাঙ্ক্ষা আরো এক কাঠি সরেস। দলকে বিশ্বকাপেও দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশীয় দর্শক তো বটেই, গতকাল মাঠে হাজির হয়েছিলেন বেশ কিছু বিদেশিও। দেশীয় সমর্থকদের ভিড়ে মিশে গিয়ে তারাও উপভোগ করেছিলেন লাওসের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈরথটি।
গ্যালারিতে দর্শক আনায় একটা বড় ভূমিকা ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে জড়ো হওয়া বিভিন্ন সমর্থকগোষ্ঠীরও? এমন এক সমর্থকগোষ্ঠী ‘সাপোর্টার্স অফ বাংলাদেশ ফুটবল’ তথা এসবিএফ। গতকাল সৌজন্যমূলক টিকিটের ব্যবস্থা করে দর্শকদের বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল এসবিএফ।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্থাটির কোষাধ্যক্ষ কামরুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘শুধু আজকের ম্যাচেই নয়, আমরা প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে দর্শকদের সৌজন্যমূলক টিকিটের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচেই এটা করে থাকি আমরা। একটা সময় দেশীয় ফুটবলে গ্যালারি ভরা দর্শক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টেডিয়ামগুলো দারুণ দর্শক খরায় ভুগছে। স্টেডিয়াম বিমুখ দর্শকদের মাঠে ফেরানোর লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’
