অমর বুড়োর শহরে বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২২:২৩

শামীম হামিদ, ব্রিস্টল (ইংল্যান্ড) থেকে

ভক্তরা তাঁকে ভালোবেসে ‘ডব্লিউজি’ নামে ডাকে। মায়ের দেওয়া নাম উইলি। আসল নাম উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস। পুরো ক্রিকেট দুনিয়া তাঁকে চেনে ডব্লিউজি গ্রেস নামে। ক্রিকেটের অমর বুড়ো ডব্লিউজি গ্রেস!

গ্রেসকে বলা হয় ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র; ক্রিকেটের আইকন। দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের অ্যাভন নদীর তীরে ব্রিস্টল শহরে তাঁর জন্ম। গ্রেসের শহরেই এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চারটি ম্যাচ হচ্ছে। এক অর্থে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভাগ্যবান যে এই শহরে তাঁদেরও একটি ম্যাচ রয়েছে।

১৮৪৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরের ডাউনএন্ড এলাকায় এক ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেন এ অলরাউন্ডার। টানা ৪৪ বছর (১৮৬৫-১৯০৮) ইংল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন এই ক্রিকেটার। দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি ইংল্যান্ড, গ্লস্টারশায়ার, দি জেন্টেলম্যান, মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ইউনাইটেড সাউথ অব ইংল্যান্ড ইলেভেন (ইউএসইই)-সহ আরো কয়েকটি টিমের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন এবং অধিনায়কত্ব করেছেন। 

অলরাউন্ডার হলেও গ্রেস খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। তিনি আধুনিক ব্যাটিং কৌশলের উদ্ভাবক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। গ্রেসের বড় ভাই ই এম গ্রেস ও ছোট ভাই ফ্রেড গ্রেসও ক্রিকেট খেলতেন। ১৮৮০ সালে তাঁরা তিন ভাই ইংল্যান্ড টিমের সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল, গলফ, লন বল ও অ্যাথলেটিকস খেলতেন গ্রেস। পেশায় চিকিত্সক হলেও ক্রিকেট খেলেই বেশি আয় করতেন গ্রেস। তাঁর বাবা হেনরি গ্রেসও ছিলেন ব্রিস্টলের একজন চিকিত্সক। ক্রিকেট থেকে গ্রেসের এমন আয় হতো যে এ নিয়ে মাঝে মাঝে তাঁকে অনেক সমালোচনাও শুনতে হতো।

ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড নামে যে মাঠটিতে বিশ্বকাপ হচ্ছে, সেটির মালিক একসময় ছিলেন ডব্লিউজি গ্রেস। চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায় অবস্থান হওয়ায় জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে সাগরিকা নামে ডাকা হয়। সোফিয়া গার্ডেনসে অবস্থান বলে কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়ামকে সোফিয়া গার্ডেনস বলা হয়। ঠিক তেমনি  নেভিল রোড নামে একটি সড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডকে নেভিল রোডও বলা হয়ে থাকে। ১৮৮৯ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামে গ্লস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব অবস্থিত।

অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্রিস্টল শুধু ডব্লিউজি গ্রেসের জন্মস্থান হিসেবেই বিখ্যাত নয়, শিল্প-সংস্কৃতিরও শহর। এই শহরে ব্যাংকসির মতো বিখ্যাত শিল্পী জন্মগ্রহণ করেছেন। শহরের নাগরিকরা খুব পরিবেশসচেতন। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল বেশ তত্পর। ত্রুটিযুক্ত কোনো যানবাহন এই শহরে প্রবেশ করতে পারে না। নাগরিকদের গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল চালনায় উত্সাহিত করা হয়।

২০১৫ সালে ব্রিস্টল ইউরোপের ‘সবুজ রাজধানী’ (গ্রিন ক্যাপিটাল) মর্যাদা লাভ করে। এই শহরে ৪০০-র বেশি পার্ক ও বাগান রয়েছে। ব্রিস্টলে সারা বছর ধরেই নানারকম উত্সব, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সবচেয়ে জমজমাট হয় বেলুন ওড়ানো উত্সব। শহরে অনেক জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি আছে।