মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিজিবির বিনামূল্যে ওষুধ ও খাদ্য পেয়ে খুশি তারা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ২১:৩১

ফাতেমা বেগম। বয়স ৮০ কাছাকাছি। ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। ছেলেরা থাকলেও কোনো খোঁজখবর নেয় না। ফলে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অন্যের কাছে হাত পেতে জীবন চালান। সম্প্রতি তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। কিন্তু চিকিৎসক দেখাবেন সেই অর্থ নেই। হাজারীবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে খাদ্য সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন। 

খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে ফাতেমা বেগম বলেন, টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাইতে পারি নাই। শুনলাম এখানে নাকি ডাক্তার দেখানো যাবে তাই আসলাম। এখন ওষুধ নিবো। আল্লাহ বিজিবির ভালো করুক। সোমবার বিকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিজিবির আয়োজনে হাজারীবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ফ্রি চিকিৎসা সেবা পেয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন তিনি। 

তার মতোই এসেছিলেন জন্ম অন্ধ মজিবর রহমান। স্ত্রী অন্যের বাসায় কাজ করেন। যা পান তাতেই চলে সংসার। বিজিবির দেওয়া বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন। মজিবর এই খাদ্য সামগ্রী পেয়ে বেজায় খুশি। তিনি বলছিলেন, বিজিবি আমারে যে খাওয়ার জন্য জিনিসপাতি দিল, খুব খুশি লাগতাছে। কেউ তো খোঁজ নেয় না। যা পাইলাম তাতে তো কয়েকদিন চইলা যাইবো। তেমনি একজন প্যারালাইজড আক্রান্ত সাহাদাত হোসেন। ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে হুইল চেয়ারে বসে এসেছিলেন তিনিও। শোক দিবসে বিজিবির দেওয়া খাদ্য পেয়ে বেশ খুশি তিনি।

এসেছিলেন বৃদ্ধা বানেসা ও বাসেরা বেগম। তাদের ছেলেরা থাকলেও মাকে দেখেন না। এই দুই নারীর এখন ভিক্ষা করেই চলে। আজ তারা কয়েকদিন চলার মত খাবার পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলেন। 

প্রায় হাজার খানেক মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাও ছিল। দুপুর ২ টা থেকে শুরু হয় চিকিৎসা সেবা। এর মধ্যে ছিল গাইনি, সার্জারি ও বিভিন্ন রোগে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা। তাদেরকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। এ সময় বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হাসপাতাল) ব্রি. জেনারেল নুরুল আমিন, ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/এএএম