মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তালেবান শাসনের এক বছর

আফগানিস্তানে বেড়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১০:১২

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের এক বছর পূর্তি হলেও বাড়তে থাকা ক্ষুধা, দারিদ্র্য, খরা, অপুষ্টি ও নারীর স্বপ্ন ম্লান হওয়ার পরিস্থিতিতে অনেকটা নিঃশব্দেই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানী কাবুলে কিছু লোক দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্যে ফাঁকা গুলি ছুড়লেও নগরীর ৪৫ লাখ বাসিন্দা শান্তভাবে দিনটি পার করছে।

এক বছর আগের এই দিনে (১৫ অগাস্ট) তালেবান মিছিল করে কাবুল নগরীতে প্রবেশ করেছিল। এর আগে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনী ও তাদের মিত্র আফগান বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত ছিল, ঐ সময়ের চেয়ে আফগানিস্তান এখন অনেক নিরাপদ। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) স্থানীয় একটি শাখা এই এক বছরে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালানো সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে নিরাপত্তা বাড়লেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে আফগানিস্তানকে নিয়ে যেতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তালেবান তার মুখে লাগাম পরাতে পারেনি। মূলত বিদেশি সরকারগুলো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় দেশটি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ায় এমন হয়েছে।

আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু নারীর কাজ করার এবং মেয়েদের শিক্ষার অধিকারসহ আফগানদের বিভিন্ন অধিকারের প্রতি তালেবান শ্রদ্ধাশীল থাকবে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন দাবি পূরণ না হওয়ায় সেসব সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করেছে তালেবান: বিদেশে জব্দ থাকা আফগানিস্তানের ৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে তালেবান। কিন্তু এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েছে, যার মধ্যে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে থাকা তালেবান নেতা ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় থাকায় তার অপসারণ চেয়ে জানানো মার্কিন দাবি উল্লেখযোগ্য। তালেবান এসব দাবি মানতে অস্বীকার করেছে, তাদের ইসলামি আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তারা সব আফগানের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে জানিয়েছে।

উভয় পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হলে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা বেকারত্ব ও অনাহারের আশু কোনো সমাধান হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের শীতে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে দাঁড়াতে পারে। আফগানিস্তানের গজনী প্রদেশের চিকিৎসক আমেনা আরেজো বলেন, ‘আমরা সবাই অন্ধকার ও দুর্ভাগ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। মানুষের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, বিশেষ করে নারীদের।’ এখন প্রায় আড়াই কোটি আফগান দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে, যা দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, স্থবির হয়ে থাকা অর্থনীতির কারণে চলতি বছর ৯ লাখেরও বেশি চাকরি নেই হয়ে যেতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/এমআর