খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক ছাত্রী ধারালো বটি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে। আহত খাদিজা আক্তার খুবির আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, খাদিজা আক্তার বেলা ১১ টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে হলের মধ্যে থাকা একটি বটি নিয়ে বাথরুমের ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে আত্মহত্যার উদ্দেশে সে ঐ বটি দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করে। এ সময় হলের ছাত্রীরা টের পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানায়। দ্রুত তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।
অপরাজিতা হলের কয়েকজন ছাত্রী জানান, পারিবারিক কোনো কারণে কয়েকদিন ধরে খাদিজা আক্তার মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। হয়তো সে কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারে।
খুবির আইন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ওয়ালিউল হাসনাত বলেন, বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে খবর পেয়ে আমি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই। তখন অপারেশন থিয়েটারে তার অস্ত্রোপচার চলছিল। পরে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খাদিজা আক্তারের সফল অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হয়েছে। তার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। সে এখন শঙ্কা মুক্ত। তবে কী কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তা বলতে পারবো না।
খুবির ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন লিমন বলেন, বেলা সোয়া ১১টার দিকে আমি ঘটনাটি জানতে পারি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, ৩-৪ দিন ধরে ঐ ছাত্রী কোনো কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল। হয়তো সে কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, হাসপাতালে তার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে শঙ্কা কেটে গেছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, মেয়েটি কি কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
