বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে তালা দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২৩:০৩

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ’২০০০ শিক্ষাবর্ষ’ যুক্ত করায় ক্ষুব্ধ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা গতকাল রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। তারা কার্যালয় দখলে রেখে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেন এবং তৃতীয় তলায় অবস্থানরত দলের গুরুতর অসুস্থ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকে অফিস কর্মচারীদের কয়েকজনকে বের করে দেন। এ সময় রিজভীকে প্রহরারত ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বিক্ষুব্ধদের মারধরের শিকার হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কার্যালয়ে গেলে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষুব্ধদের বাধার মুখে ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হন তারা। পরে তারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। পরে তারা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আবারো বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ করা হবে বলে জানান তারা।

বিক্ষোভকারী সিনিয়রদের মূল দাবি—নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সের সীমারেখা না রাখা, আপাতত ছয় মাস মেয়াদি এবং পরে এক বছর মেয়াদি কমিটি গঠন এবং কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও কলেজের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ছাত্রদলের শ’খানেক নেতাকর্মী ফটকে তালা দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কার্যালয়ের নিচ তলায় অনশনেও বসেন। ১১টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন। বিএনপির এই চার নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন সাবেক ছাত্রনেতারা। এ সময় তাদের সাথে ছাত্রনেতাদের কমিটির বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘বয়সসীমা না করে ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি দিতে হবে।’

এ সময় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী কার্যালয়ের ভিতরে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তবে ছাত্রনেতারা বলেন, ভিতরে নয়, এখানেই কথা বলুন। এ সময় এ্যানীকে ধাক্কা দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করা হয়। এতে বলা হয়, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে। ছাত্রদলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যে কোনো বছরে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পর বিকালে মারমুখী হয়ে ওঠেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে বিক্ষোভরতদের একটি অংশ। বিলুপ্ত কমিটির আজমল হোসেন পাইলট, আসাদুজ্জামান, ওমর ফারুক মুন্না, মফিজুর রহমান আশিক, আবুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, বাইজিদ আরেফিন ছিলেন তাদের নেতৃত্বে। তালা খোলার পর বিক্ষুব্ধরা ভবনের বিদ্যুত্ সংযোগ চালু করে দেন। বিএনপির দপ্তরের কর্মী দলিল উদ্দিনকে এ সময় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ভবন থেকে অফিস কর্মীকে বের করে দেন ছাত্রদলের কর্মীরা। এ সময় ভেতরে থাকা ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বিক্ষুব্ধদের রোষের শিকার হন। তাকে মারধর করে তৃতীয় তলা থেকে নামিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়।

পরে বিক্ষুব্ধ নেতাদের একজন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ৯/১০ জনকে বের করে দিয়েছি। আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রদল করি, কোনো পদবি নাই। যাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে আমরা চিনি না। তারা টোকাই ও বহিরাগত। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত্ সংযোগ স্বাভাবিক রাখার পর সন্ধ্যার আগে আগে লাইন বন্ধ করে দেন ছাত্রদল কর্মীরা। সন্ধ্যায় নামাজের সময় কিছু সময় বিদ্যুত্ দিয়ে তারপর আবার বন্ধ রাখা হয়। অফিস কর্মীদের কয়েকজনকে বের করে দেওয়ার পর আবার বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায়সহ কয়েকজন নেতা বিকাল সোয়া ৫টার পর কার্যালয়ে এলে তালা খুলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুও ছিলেন আব্বাসদের সঙ্গে।