শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এশিয়া-প্যাসিফিকেও ন্যাটোর মতো সামরিক ব্যবস্থা চায় পশ্চিমারা : পুতিন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০৩:০১

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ন্যাটোর মতো সামরিক ব্যবস্থা বিস্তার করতে চায় পশ্চিমা বিশ্ব। গতকাল মঙ্গলবার মস্কোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে পুতিন এই মন্তব্য করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সংঘাত অকারণে বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ছিল ‘সম্পূর্ণ পরিকল্পিত উসকানি’। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সংঘাতকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে সোমবার পুতিন বলেছেন, ল্যাটিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকায় মস্কোর যেসব মিত্রদেশ রয়েছে, তারা রাশিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এসব দেশকে যে কোনো সময় আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে মস্কো প্রস্ত্তত। মস্কোর অদূরে রাশিয়ার অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। নিজেদের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্রে রাশিয়ার সক্ষমতা দেখানোর জন্যই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে মস্কো। সোমবার থেকে ঐ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সেখানে পুতিন ঘোষণা দিয়ে বলেন, সমমনা দেশগুলোকে অস্ত্র দিতে প্রস্তুত তার দেশ।

এদিকে ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন রাশিয়ার নেই বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। শোইগুর অভিযোগ, ইউক্রেন যেসব সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর পরিকল্পনা হাজির করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে একাধিক দফায় ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোরও সমালোচনা করেন শোইগু। আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্হতি মার্কিন দূতাবাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমেরিকার আচরণ রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রুশ দূতাবাস বলেছে, আজকাল আমেরিকা অন্য কোনো দেশকে সম্মান করে কথা বলছে না। তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমেরিকার এসব আচরণ পরমাণু সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। ইউক্রেন পরিস্থিতিতে আমেরিকার পদক্ষেপ দুই পরমাণু শক্তির মধ্যে অপ্রত্যাশিত সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। —বিবিসি ও আলজাজিরা

ইত্তেফাক/ইআ