বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি রাস্তাঘাট, আতঙ্কে নদীতীরবর্তী মানুষ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০৫:০৩

দিন যতই যাচ্ছে ভাঙনের গতি ততই বেড়ে চলছে। উজানের ঢলে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এ বছর চলমান ভাঙনে বিপাকে পড়েছেন রাজারহাট উপজেলার তিস্তা পাড়ের মানুষ। ভাঙনের ফলে এলাকার মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।

ঘড়িয়াল ডাংগা ইউনিয়নে সরিষাবাড়ি গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো. সহিদুল ইসলাম জানান, শেষ পর্যন্ত রক্ষা হলো না আমাদের বাপ-দাদার পুরাতন ভিটা। চলে গেল তিস্তা নদীর গর্ভে। তিনি আরো বলেন, অন্যকে দোষ দিয়ে কী লাভ, দোষ আমাদের নিজেদের কপালের। সবাই দেখে যায় আর ফিরে আসে না। জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যানন্দ, নাজিম খান ও ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২০ দিনে ঘড়িয়াল ডাংগা ইউনিয়নের চর খিতাব খাঁ, মণ্ডলপাড়া, পাকার মাথা ও গতিয়াশাম এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ১০০ বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক বাড়িঘর, ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তার চরের চাষি রফিকুল ইসলাম, ছাদেক আলী ও মোহাম্মদ আলী জানান, চরের মানুষকে দেখার কেউ নেই। প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে মানুষ বাপ-দাদার ভিটামাটি ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। অনেকে চরের এপার-ওপার করে চালাঘর তুলে কোনো রকমে বসবাস করছেন। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হোসেন আলী বলেন, তিস্তার চরের মানুষ আমি। আমি জানি বসতবাড়ি ভাঙনের কত জ্বালা। তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়া পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম জানান, তিনটি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার ভাঙন দেখা দিয়েছে। একটি ইউনিয়নকে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করেছি। বাকি দুই ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে তাদেরকে দেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল-মামু্ন জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইআ