মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিলুপ্ত প্রায় থাইলাসিন টিকিয়ে রাখতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৫

তাসমানিয়ান বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বেশ ব্যায়বহুল একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। যৌথভাবেই কাজ করছেন তারা। অস্ট্রেলিয়ান এবং মার্কিন বিজ্ঞানীদের দল একই রকম ডিএনএ সহ একটি জীবন্ত মার্সুপিয়াল প্রজাতি থেকে স্টেম সেল নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রজাতিগুলিকে "ফিরে আনতে" জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

১৯৩০ সালের আগেও অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া আর পাপুয়া নিউ গিনির বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে ঘুরে বেড়াত এক বিশেষ জাতের প্রাণী। তার মুখ আর দেহটা দেখতে কুকরের মতো। পিঠে বাঘের মতো কালো ডোরাকাটা দাগ। আর লেজটা ক্যাঙ্গারুর লেজের মতো, যেন তিনটি প্রাণী মিলে বিশেষ এক জাতের প্রাণীর সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে অদ্ভুতুড়ে এক প্রাণীর কথা যার নাম থাইলাসিন। এদেরকে তাসমানিয়ান টাইগার নামেও ডাকা হতো।

ইউরোপের তাসমানিয়াতেই কমপক্ষে পাঁচ হাজার থাইলাসিনের বসবাস ছিল। তবে এক পর্যায়ে বিলুপ্তি ঘটতে থাকে প্রানীটির। ১৯০০ সালের দিকে এসে  খুব দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। জানা যায়, সবশেষ ১৯৩০ সালে বন্য থাইলাসিনটি এক শিকাড়ির গুলিতে নিহত হয়।

সংরক্ষণ করে রাখা থাইলাসিনের দেহ

অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রাণীটিকে সংরক্ষিত করার ঘোষণা করা হলেও চিড়িয়াখানায় থাকা সর্বশেষ থাইলাসিনটিও মারা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রাণীটিকে সরকারিভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।তবে সম্প্রতি নতুন বেশ কিছু রিপোর্ট বলছে অস্ট্রেলিয়ার পাপুয়া নিউ গিনি এবং তাসমানিয়ায় থাইলাসিনদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।

থাইলাসিনরা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও গবেষকদের দাবি থাইলাসিনকে বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনবেন তারা। ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে থাইলাসিনকে আবার ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা। ক্লোনিং করে থাইলাসিন ফিরিয়ে আনার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি তর্ক রয়েছে, তবে এটাও মানতে হবে যে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে থাইলাসিনদের ফিরিয়ে আনার এ প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যয়বহুল এবং জটিল।

এ বিষয়ে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পাস্ক বলেন, আমি এখন বিশ্বাস করি প্রায় এক শতাব্দী আগে বিলুপ্তি হওয়া এই জীবটির ডিএনএ থেকে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা প্রথম জীবিত শিশু থাইলাসিন পেতে পারি।

সংরক্ষণ করে রাখা থাইলাসিনের চামড়া

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় জাদুঘরের কাছে থাইলাসিনদের নিয়ে ব্যাপক সংগ্রহ রয়েছে। এসব সংগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ওয়েট স্পেসিমেন (তরলে সংরক্ষিত জৈবিক নমুনা)। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার অ্যানাটমি ইনস্টিটিউটের সংগ্রহে রয়েছে দুটি থাইলাসিনের চামড়া, কঙ্কাল এবং ত্রিশটিরও বেশি দেহাংশ। এসব সংগ্রহ থাইলাসিন ক্লোনিংয়ে বেশ সাহায্য করবে।

এদিকে অনেক বিজ্ঞানীরা বলছেন তাসমানিয়া ছাড়া প্রায় সব অঞ্চল থেকে প্রায় ২ হাজার বছর আগেই এদের বিলুপ্তি হয়ে গেছে। দুজন জার্মান পর্যটক দাবি করেন তাসমানিয়ায় এদের দেখা মিলেছে। এছাড়া এক তদন্তকারীর দলও ঠিক একই দাবি করেছিলেন।

থাইলাসিনের উপস্থিতির মোট সাতটি রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে থাইলাসিনের সন্ধান পাওয়ার অনেক ছবি নিয়ে এই প্রাণীর দেখা পাওয়ার দাবি করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

 

ইত্তেফাক/এএইচপি