ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এবং এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। গতকাল মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন। বাছির বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি অভিযোগ। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। ঐ রেকর্ড আমার নয়। ওই রেকর্ড ভুয়া। আপনারা সব এক্সপার্ট নিয়ে এটা প্রমাণ করুন। সে (ডিআইজি মিজানুর রহমান) আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
উল্লেখ্য, পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বেশকিছু অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করছিলেন খন্দকার এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এ বিষয়ে ডিআইজি মিজান দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও ফাঁস করেন। ঘুষ নেওয়ার এ অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তথ্য ফাঁসের দায়ে দুদক এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একইসঙ্গে তিনি ঘুষের টাকা নিয়েছেন কি না, নিলে সেই টাকা কোথায় আছে, এ বিষয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ যে মিথ্যা, তার কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে খন্দকার এনামুল বাছির বলেন, মিথ্যা জিনিসের প্রমাণ কী? এটা বানোয়াট একটা অভিযোগ। আপনারা যত প্রকারের এক্সপার্ট নিয়ে পারেন প্রমাণ করেন। যেভাবে পারেন প্রমাণ করেন। তাকে প্রমাণ নিয়ে আসতে বলেন। মিথ্যার কোনো প্রমাণ থাকে না।
ডিআইজি মিজান কেন আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কেন তদন্ত হচ্ছে সেটার জবাব দেন। যে রেকর্ড ফাঁস হয়েছে সেখানে কণ্ঠ আমার না। ফাঁস হওয়া রেকর্ডের কণ্ঠ আমার না সেটাই আমি বলতে পারি। ডিআইজি মিজান মিথ্যা অভিযোগ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন কি না- সেই প্রশ্নে বাছির বলেন, আমার নিজেরই চাকরি নাই। মামলা করবো কী! মামলার প্রশ্ন অবান্তর।
ডিআইজি মিজানের দুদকের কাছে করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে চুক্তি ছিল টাকার বিনিময়ে অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন। তবে টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেন বাছির। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ লেনদেনের এই ঘটনা দুদকের কাছে ফাঁস করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক।
