শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮:৩০

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। বুধবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা ধুনট হাসপাতাল সড়কের খাদ্য গুদাম এলাকায় অবরোধ করে রাখেন। এসময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল ১০টার দিকে ধুনট সরকারি খাদ্যগুদাম এলাকায় অবস্থিত ধুনট সদর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স এশিয়া এন্টার প্রাইজের সামনে সার বিক্রি শুরু হয়। এসময় কৃষকদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম সার দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে উপস্থিত কৃষকরা ক্ষুব্ধ হোন এবং তারা সড়কের ওপর গাছের ডাল ফেলে অবস্থান নিয়ে সড়কটি অবরোধ করেন। সংবাদ পেয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জান ও থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুইদিন তারা সার ডিলার পয়েন্টে এসে ফিরে গেছেন। আজ সার নিতে এসে জানতে পারেন তাদের চাহিদামতো সার দেওয়া হবে না। এছাড়া মাত্র ৩টি ওয়ার্ডের কৃষকদের সার দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

ধুনট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলা আগস্ট মাসের জন্য সরকারিভাবে ৮৯০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার বরাদ্দ রয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১ জন করে বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া সার ডিলারদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন একটি ইউনিয়নের ৩টি করে ওয়ার্ডের কৃষকদের সার দেওয়া হবে। 

বুধবার সকাল থেকে ধুনট ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের মাঝে জমির পরিমাণ অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ইউরিয়া সার বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু সার বিক্রি শুরু করার আগেই কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জান বলেন, ‘ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড থেকে কৃষক সেখানে আসার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হবে।’

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের শান্ত করে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডের কৃষকদের সার দেওয়া হবে। এ ছাড়াও উপজেলায় নতুন করে সার বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/মাহি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন