এমপি লিটন হত্যা

অস্ত্র মামলায় সাবেক জাপা এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২৩:১০

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইনের একটি মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এমপি কর্নেল (অব) আব্দুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া মামলার অপর এক ধারায় তাকে ১৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ছাপরহাটি গ্রামের খানপাড়ার নয়ান খানের ছেলে।

রায়ের সময় আদালতে এমপি লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তিনি আবেগ আপু্লত হয়ে পড়েন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে লিটন হত্যা মামলার বিচার কাজ দ্রুত শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযারী বিচারক অস্ত্র মামলার ৪৩ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। কাদের খানকে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে যাবজ্জীবন ও অবৈধ গোলা-বারুদ মজুদ রাখার দায়ে ১৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাষ্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় পরদিন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসা থেকে কাদের খানকে গ্রেফতার করা হয়।

পিপি জানান, এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় ৩টি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে ১টি অস্ত্র কাদের খান নিজে থানায় জমা দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ছয় রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিনসহ দ্বিতীয় অস্ত্রটি উপজেলার ছাপরহাটি গ্রামের আব্দুল কাদের খানের বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তৃতীয় অস্ত্রটির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার তত্কালীন পরিদর্শক আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, এমপি লিটন হত্যা মামলাটি বর্তমানে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে। হত্যার মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী হিসাবে পুলিশ কাদের খানসহ চারজনের নামে চার্জশিট দিয়েছে। আটক আসামিরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এক আসামি চন্দন কুমার এখনো পলাতক রয়েছেন।