শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিষাক্ত পার্থেনিয়াম আগাছায় ছেয়ে গেছে ইবি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৬:৪৮

হালকা সবুজ ঝোপ আকৃতির সাদা ফুলবিশিষ্ট গাছগুলো দূর থেকে দেখতে সাধারণ কোনো আগাছা মনে হলেও এরা আদতেও সাধারণ নয়। মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ আগাছার নাম পার্থেনিয়াম। বৈজ্ঞানিক নাম পার্থেনিয়াম হিস্টিরিওফোরাস। আর এ বিষাক্ত পার্থেনিয়ামে ছেয়ে গেছে গোটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। 

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ রাস্তার ধারে এ গাছের উপস্থিতি রয়েছে। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ রাসেল হল, ক্যাফেটেরিয়া, প্যারাডাইস রোড, পেয়ারাতলা, মফিজ লেক, ক্রিকেট মাঠ, ফুটবল মাঠ এলাকায় এর আধিক্য সবচেয়ে বেশি। এছাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকাতেও পার্থেনিয়ামের ঝোপ রয়েছে। 

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, পার্থেনিয়াম একটি নর্থ-আমেরিকান প্রজাতির আগাছা। যা ভুট্টা ও গম বীজের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে যাওয়ার কারণে যে কোনো ঋতুতে এর বিস্তার সম্ভব। তবে রবিশস্যের সঙ্গে এর ফলন বেশি হয়। অঞ্চলভেদে এটি কংগ্রেস ঘাস, গাজর ঘাস, চেতক চাঁদনী ইত্যাদি নামে পরিচিত। সাধারণত রাস্তার আশপাশে এরা বেশি জন্মায়। উদ্ভিদটি উচ্চতায় ১ থেকে ১ দশমিক পাঁচ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মিহির লাল সাহা বলেন, পৃথিবীতে ১০০টি আগ্রাসি প্রজাতির গাছের মধ্যে পার্থেনিয়াম অন্যতম। এতে পার্থেনিন নামক এক ধরনের পদার্থ রয়েছে যা ত্বকে লাগলে চুলকানি, চর্মরোগ হতে পারে। বাতাসের মাধ্যমে এর ফুলের রেণু মানুষের নাকে প্রবেশ করলে এলার্জি, ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হাপানির মতো মারাত্মক সব রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, এটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফসলের ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গবাদিপশুর প্রাণনাশেরও কারণ হতে পারে। এটি দমনের প্রধান উপায় হলো, ফুল ফোটার পূর্বেই গাছ তুলে ফেলে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এভাবে দুই-তিন মৌসুমে এটার উৎপাদন রোধ করা গেলে এটি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব দ্রুততম সময়ের মধ্যে পার্থেনিয়ামসহ ক্যাম্পাসের সব ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, এলার্জি ইত্যাদির জন্য মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিত্সা রয়েছে। তবে এটি যেহেতু বায়ুবাহিত, তাই এর থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের মালিদের সঙ্গে কথা বলব। কোথায় কোথায় আছে তা খোঁজ নিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা যায় কি না বা স্পে্র করা যায় কি না—সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এরকম যদি কোনো ক্ষতিকারক গাছ ক্যাম্পাসে থেকে থাকে তাহলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

ইত্তেফাক/এআই