পাঞ্চেন লামার মাধ্যমে তিব্বতে যা চায় চীন 

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৪

চীন হতে নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত পাঞ্চেন লামা ওরফে 'পাপেট' লামা গিয়ালটসেন নোরবু তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় এসেছেন। তিব্বতে শান্তিপূর্ণ ও নিজস্ব ধর্মীয় অনুশাসনের পরিবর্তে চীন তাদের উগ্রপন্থী ধর্মীয় চর্চার বিকাশ ঘটাতে ইচ্ছুক।  এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

তিব্বত প্রেসের মতে, গিয়াল্টসেন নোরবুর প্রস্তাবিত বৌদ্ধধর্মের এই রূপ আসলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর দর্শন চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিব্বতি নাগরিকগণ তাদের বিশ্বাস থেকে কখনই সরে আসবে না। তিব্বত চীনের দখলে আসার পর চীনের অন্যান্য অঞ্চলের অনেকেই  তিব্বতীয় দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হয় ও মনপ্রাণে এর চর্চা করে। 

তিব্বতি নাগরিকগণ তাদের বহুবছরের বিশ্বাস থেকে সরে আসবে না। কিন্তু তারা নোরবুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে এই বাকিদের ধর্মীয় চর্চায় ব্যাঘাত ঘটার আশংকায় দুঃখপ্রকাশ করেছে।  

গিয়ালটসেন নোরবু সম্প্রতি নিসিরি পর্বতের পাদদেশে তাশিলহুনপো আশ্রম পরিদর্শনে যান। এছাড়াও তার সাম্প্রতিক সাংডিং আশ্রম ও লোকা শহর পরিদর্শনে তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের দর্শন পরিবর্তনের ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন।

দিল্লিভিত্তিক আইনি সংস্থা তিব্বত রাইটস কালেক্টিভ (টিআরসি) এর মতে, নোরবুর বুলেট ট্রেনের মাধ্যমে আশ্রমে পৌঁছানো আসলে তিব্বতে চীনের উন্নয়ন কার্যক্রমের দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

টিআরসি আরও বলে, নোরবুর আশ্রম পরিদর্শন উদযাপন তিব্বতি দর্শনের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। নোরবুর কার্যকলাপে আরও প্রকাশ পায়, কিভাবে চীন তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার পুনর্জন্মের বিষয়ে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করবে।

এসময়ে নোরবু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুনাম করেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিব্বত সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। যার পেছনে চীন সরকারের অবদান অসীম বলে তিনি মনে করেন। 

এবছরের ১৭ই মে, সম্ভাব্য ১১তম পাঞ্চেন লামার পুরো পরিবার অপহরণের শিকার হয়।  

প্রায় তিন দশক যাবত তিব্বতিরা তাদের ১১তম পাঞ্চেন লামার ছবি দেখেনি। চীন কর্তৃপক্ষ জানায়, গেধুন চোকিই নিয়মা ও তার পরিবার ভালভাবে জীবনযাপন করছে। টিআরসির প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়।  

ইত্তেফাক/এসআর