শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মোবাইল রিচার্জে টাকা পাঠিয়ে ‘প্রেমের ফাঁদ’, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৯:৫৪

মোবাইলে রিচার্জে টাকা পাঠানোর পর অপরিচিত নাম্বার থেকে কল করতো নারী সদস্যরা। যে ব্যক্তিকে টাকা পাঠানো হয়েছে, তাকে বলা হতো ভুল করে টাকা পাঠানো হয়েছে। এরপর মিষ্টি কথায় মুগ্ধ করা হতো রিচার্জে টাকা পাওয়া ব্যক্তিকে। এভাবে কিছুদিন মোবাইলে ভাব জমিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হতো। একপর্যায়ে ডাকা হতো বাসায়। সরল বিশ্বাসে কেউ বাসায় গেলে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি তুলে হাতিয়ে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা। এমনই এক চক্রের নারী সদস্য ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার দিবাগত রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার বার তের মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলো-মোহাম্মদ মজনু, রওশন আরা রুমা ও আব্দুস সালাম। 

ওসি মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, ‘গ্রেফতার মজনু একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। সেই দোকানেরই মালিক আল আমিন। গত ১১ জুলাই তাকে ফোন করে গ্রেফতার রুমা। চালাকি করে এর আগেই তার মোবাইলে ৫০ টাকা দিয়ে দেন তিনি। এরপর ভুলে ওই টাকা চলে গেছে বলে ভাব জমান। এভাবে কয়েকদিন কথা বলার পর একদিন রুমা আল আমিনকে তার বাসায় দাওয়াত দেন। আল আমিন বাসায় যান। যাওয়ার সময় মজনুকেও নিয়ে যান। বাসায় যাওয়ার পর মজনু বাইরে যাবেন বলে বেরিয়ে যান।’

এর কিছুক্ষণ পর সেখানে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন প্রবেশ করে তারা আল আমিনকে মারধর করেন এবং রুমার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলেন। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে গুম করারও হুমকি দেন। আল আমিন এক পর্যায়ে তাদের সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও ৩৭ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশকে জানালে তাদের ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মজনু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাদের চক্রে মোট আটজন সদস্য রয়েছেন। তাদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ মোহসীন।

ইত্তেফাক/এএএম