বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সম্পত্তির জন্যই ভাবিকে পিটিয়ে হত্যা করেন কামাল

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ২১:৫৪

পৈত্রিক সম্পত্তির জন্যই রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইনে ভাবীকে পিটিয়ে হত্যা করেন দেবর কামাল হোসেন ওরফে টিকটিকি কামাল। হত্যার ঘটনায় স্বামীর দায়ের করা মামলায় দেবর টিকটিকি কামাল গ্রেফতার হলেও মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী টিকটিকি কামালের বড় ভাই মনির হোসেন অভিযোগ করেছেন, গ্রেফতার হওয়া আরেক ভাই আলতাফ হোসেন ৩-৪ দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে হুমকি দিচ্ছে। আলতাফ বলছে, টিকটিকি কামাল কারাগার থেকে ছাড়া পেলে তাকে সপরিবারে শেষ করে দেওয়া হবে। 

গত ১২ জুলাই রাতে জুরাইনের কমিশনার রোডের ৪২৪/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় লিজার্ড কয়েল ফ্যাক্টরিতে পারিবারিক কলহের জের ধরে টিকটিকি কামাল ও আলতাফ হোসেনসহ তাদের ৪-৫ জন সহযোগীকে নিয়ে বড় ভাই মনির হোসেন ও তার সন্তানদের বাসা থেকে বের করে দিয়ে মারধর করতে থাকে। এসময় মনির হোসেনের স্ত্রী পাখি আক্তার আঁখি নিজ সন্তানদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আশেপাশের লোকজন আঁখি, সাজ্জাদ ও সাব্বিরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে পাখিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্যামলীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসার পর ১৬ জুলাই রাতে আঁখি মারা যান।

ঘটনার পর মনির হোসেন বাদী হয়ে তার দুই ভাই কামাল হোসেন ওরফে টিকটিকি কামাল ও আলতাফ হোসেনসহ তাদের চার সহযোগী স্বপন, সাইফুল, রিপন ও ভুলুকে আসামি করে কদমতলী থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ টিকটিকি কামাল ও আলতাফ হোসেনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে টিকটিকি কামাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

মনির হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের বাবা হাজী শাজাহান মিয়ার রেখে যাওয়া ছয় তলা বাড়ি ও ওই বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত লিজার্ড কয়েল ফ্যাক্টরি পুরোটাই দখল করতে চায় তার দুই ভাই। অথচ তারা চার ভাই ও এক বোন এই পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক। ২০২০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এই সম্পদের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রায়ই টিকটিকি কামাল ও আলতাফ হোসেন হুমকি দেয়। 

পুলিশ জানায়, টিকটিকি কামাল অনেক আগে থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। বাবার মৃত্যুর টিকটিকি কামাল তার বাবার রেখে যাওয়া সব সম্পদ দখল করে নেন। এ নিয়েই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই সোহেল রানা বলেন, বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে কামাল ও আলতাফের হাতে তাদের ভাবী আঁখি খুন হয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনও পুলিশের কাছে আসেনি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণসহ চার্জশিট দেওয়া হবে।  

ইত্তেফাক/এএএম