রোহিঙ্গা সংকটের উত্স খুঁজতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সপ্তম অংশীদারিত্ব সংলাপে এই ঐকমত্য হয়। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে এছাড়াও অর্থনীতি, উন্নয়ন, মানবাধিকার, নৌ নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্তর্ভূক্ত করার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশই এই ইস্যুতে জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্নয় অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে চাপ দিতে সম্মত হয়েছে। দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৪৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করায় ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ঢাকা। সংলাপে পররাষ্ট্রমন্¿ী শহীদুল হক বাংলাদেশের পক্ষে ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেইল নেতৃত্ব দেন। নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, ত্রাণ ও দুর্যোগ এবং সন্¿াসবাদ দমনে দুই দেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দুই পক্ষই সন্¿াসবাদ ও মানবাধিকার ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। দুই দেশের মধ্যে বিনিময় হওয়া সামরিক বাহিনীর বিশেষায়িত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আলোচনা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ইস্যুতে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যাপারে সংলাপে আলোচনা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নৌ নিরাপত্তা, পাইরেসি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
সংলাপে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পার্লামেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আইনের শাসন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এ সময় প্রধানমন্¿ী শেখ হাসিনার মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। ওয়াশিংটন মানবাধিকার রক্ষা ও মানবপাচারে জোর পদক্ষেপ নিতে আহবান জানিয়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অনুন্নত দেশ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে যেতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের কথা সংলাপে উল্লেখ করা হয়। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভূক্ত করায় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মান ও চর্চার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রম অধিকার ও কর্ম পরিবেশের নিরাপত্তায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
